প্রেমিকার ‘বিয়ে’র চাপ সহ্য করতে না পেরে শিক্ষিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন! স্কুল ম্যানেজারের কুকীর্তিতে তোলপাড় গোরখপুর

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে এক তরুণী প্রাইভেট স্কুল শিক্ষিকার মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষিকার নাম রীনা বিশ্বকর্মা (ঝাঘান থানা এলাকার বাসিন্দা)। প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের জন্য লাগাতার চাপ দেওয়ায় স্কুলের ম্যানেজারই তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দেওরিয়া জেলার রুদ্রপুর এলাকায় ফেলে রেখে আসে বলে অভিযোগ।

ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুল ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বেতন আনতে গিয়ে নিখোঁজ, পরদিন উদ্ধার লাশ: পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রীনা বিশ্বকর্মা গোরখপুরের খুররাইহি লোহার টোলার বাসিন্দা ছিলেন এবং নাই বাজারের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩১শে অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি স্কুল থেকে বকেয়া বেতন আনতে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু বিকেল পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বেগে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

স্কুলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রীনা বিকেল ৩টেতেই স্কুল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এর পরদিন দেওরিয়া জেলার রুদ্রপুরের একটি নির্জন এলাকা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়।

বুলডোজার ও এনকাউন্টারের দাবিতে পথঅবরোধ: সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষিকার মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ জনতা বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে মরদেহ বোহাবার গ্রামের সামনে রুদ্রপুর-দেওরিয়া প্রধান সড়কে রেখে দীর্ঘক্ষণ পথঅবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল— অবিলম্বে দোষীদের এনকাউন্টার করতে হবে এবং অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক ইঞ্জিনিয়ার সরওয়ান নিষাদ। তিনি পরিবারকে কঠোর ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারি: পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, নিহত শিক্ষিকার সঙ্গে উক্ত স্কুলের ম্যানেজারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রীনা তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে উভয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এর পরেই পরিকল্পনামাফিক বেতন দেওয়ার অঘোষিত বাহানায় শিক্ষিকাকে ডেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পুলিশ অভিযুক্ত স্কুল ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে টানা জেরা চালাচ্ছে এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।