শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য! এবার আইনি কোপে বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী? কড়া পদক্ষেপে তোপ কুণালের

বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করে তৈরি হওয়া বিতর্ক মিটতে না মিটতেই ফের নতুন করে বিপাকে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। এবার ভগবান শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের শারীরিক ভঙ্গিমার তুলনা টেনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই বিতর্কিত ধর্মগুরু। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সনাতন ধর্মের অনুগামী থেকে শুরু করে আমজনতা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর একটি ভিডিও ক্লিপ মারাত্মকভাবে ভাইরাল হয়। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি বা ছবিতে তাঁকে তিন জায়গায় (পা, কোমর ও ঘাড়) বাঁকা ভঙ্গিতে দেখা যায় এবং তিনি বাঁকা হয়েই বাঁশি বাজান। অন্যদিকে শ্রীরামচন্দ্র অত্যন্ত সোজা, দাপুটে ভঙ্গিতে দাঁড়ান ও ধনুক ধরেন। বক্তব্যের শেষে রামভক্তদের হাত তুলে সমর্থন জানাতেও বলেন তিনি।

সোচ্চার কুণাল ঘোষ, মামলার দাবি

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এমন মন্তব্যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শ্রীকৃষ্ণকে এভাবে অপমান করার অধিকার ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে কে দিল?” এর আগে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন এই বাগেশ্বর বাবা। সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বলেন, “আগে বাঙালিদের কটূক্তি, আর এবার সরাসরি ঈশ্বরকে অপমান! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা কেন হবে না?”

চাপের মুখে নতিস্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে এবং আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত পেয়েই তড়িঘড়ি সুর নরম করেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সাফাই দিয়ে তিনি জানান, তিনি নিজেও একজন পরম কৃষ্ণভক্ত এবং শ্রীকৃষ্ণের গুণগান করেন।

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর দাবি, রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বাঁশি বাজানো নিয়ে প্রচলিত একটি কথার ব্যাখ্যার খাতিরে তিনি নিছকই কিছুটা রসিকতা করেছিলেন। মানুষ তাঁর কথার ভুল অর্থ বের করেছে। রাম এবং কৃষ্ণ বস্তুত একই রূপ— সেটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন এবং নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।

তবে বারবার এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় উঠেছে নানা প্রশ্ন।