‘শীতঘুমের রাজনীতি!’ রাহুল গান্ধীর পোস্টার নিয়ে সল্টলেকে চরম রাজনৈতিক শোরগোল, দিলীপ ঘোষের কটাক্ষে তোলপাড় রাজ্য

কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ছবি সংবলিত অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টারকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে চরম চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল ছড়িয়ে পড়ল কলকাতার সল্টলেক এলাকায়। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই পোস্টারগুলি সাঁটিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও তরজা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা করুণাময়ী বাস টার্মিনাস এবং করুণাময়ী মোড় সহ একাধিক জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই পোস্টারগুলি সাঁটানো হয়েছে। পোস্টারে সংসদের ভেতরকার রাহুল গান্ধীর একটি আপাত-ঘুমন্ত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ছবির ঠিক নিচে বড় বড় অক্ষরে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে— “দেশের নেতা কি এমনই হওয়া উচিত?”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার আগেও সল্টলেকের এই সমস্ত পয়েন্টে এ ধরনের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। রাতের অন্ধকারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ বা কারা এই পোস্টারগুলি সাঁটিয়ে দিয়ে চম্পট দিয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও তরজা: সম্প্রতি কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নেতৃত্বে একটি বড় মিছিল সংঘটিত হয়েছিল। ঠিক তার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের আঁধারে এমন পোস্টারবাজি শুরু হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ হু হু করে চড়ে গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবির ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশিষ্ট বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এবং একে রাহুলের তথাকথিত “শীতঘুমের রাজনীতি” বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কংগ্রেস শিবিরের প্রাথমিক ধারণা, জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের আন্দোলন ও রাহুল গান্ধীর ক্রমবর্ধমান জনভিত্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই কোনো কুচক্রী মহল রাতের আঁধারে এই রহস্যময় পোস্টারের ষড়যন্ত্র করেছে।

গোটা ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চক্রান্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় স্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক খোঁজখবর ও পুলিশি নজরদারি।

Aditi Banik
  • Aditi Banik