‘জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতেই হবে!’ দিল্লিতে বিরোধী সমাবেশের পর রাহুলের বড় পদক্ষেপে কংগ্রেসের লাভ কতটা?

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একমঞ্চে হাজির হয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। তবে এই বিশাল রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের রাজনৈতিক ঝুলিতে কতটা লাভ আসবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। বিশেষ করে সামনেই যখন ২০২৭ সালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন, তখন এই আন্দোলনের সুফল কংগ্রেস কতটা ঘরে তুলতে পারবে, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

সিইসি-কে নিশানা ও ২০২৪-এর নির্বাচনকে ‘বেআইনি’ দাবি

সমাবেশের পর থেকেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছেন। ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন। রাহুল বারংবার জোর গলায় দাবি করছেন যে, জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতেই হবে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি আয়োজিত এক ‘প্রহসনমূলক মক সংসদে’ তিনি দাঁড়িয়ে পুরো ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকেই সরাসরি ‘বেআইনি’ ও ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছেন।

আসল লক্ষ্য মোদী সরকার, তবে প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করা হলেও বিরোধীদের আসল নিশানায় রয়েছে মোদী সরকার। কিন্তু রাহুলের এই চরম দাবির পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বা কেন্দ্রীয় সরকারের স্থিতিশীলতার ওপর আদৌ কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন এখনও অনেক দূরে হলেও, আসল লড়াইটা ২০২৭ সালের রাজ্য নির্বাচনগুলিতে।

উত্তর প্রদেশের কঠিন চ্যালেঞ্জ

কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উত্তর প্রদেশ। এই রাজ্য থেকেই রাহুল গান্ধী সংসদে প্রবেশ করলেও সেখানে কংগ্রেস শেষবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল সেই ১৯৮৪ সালে! ফলে রামলীলা ময়দানে বিরোধী শক্তি প্রদর্শন করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এলেও, গ্রাউন্ড জিরো বা মাঠপর্যায়ে কংগ্রেস নিজেদের কতটা শক্তি বৃদ্ধি করতে পারল, ২০২৭-এর অগ্নিপরীক্ষার আগে সেটাই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়।