বিপদের মুখে ত্বক! মারাত্মক দূষণে হু হু করে বাড়ছে বয়স? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন বিশেষজ্ঞরা

দেশের রাজধানী দিল্লি-এনসিআর সহ একাধিক মেট্রো শহরে বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে গেছে। অনেক এলাকাতেই AQI ইতিমধ্যে ৩০০-এর মাত্রা অতিক্রম করে ‘অত্যন্ত খারাপ’ ক্যাটাগরিতে পৌঁছেছে। বিষাক্ত ধোঁয়াশা ও বাতাসে ভাসমান দূষণকারী উপাদান কেবল শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি করছে তা নয়, তা আমাদের ত্বকের জন্যও অত্যন্ত মারাত্মক প্রমাণিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই বিষাক্ত বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য কেড়ে নিয়ে সময়ের আগেই বার্ধক্য ডেকে আনছে।
অকাল বার্ধক্যের কারণ কি দূষিত বাতাস?
আর্টেমিস হসপিটালের রেসপিরেটরি ডিজিজেস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চেয়ারপার্সন ডাঃ প্রশান্ত সাক্সেনা জানান, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণা যেমন পিএম ২.৫ (PM 2.5) এবং পিএম ১০ (PM 10) সহজেই ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। প্রতিদিন এই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসার ফলে ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়, যা কোলাজেন তৈরিতে বাধা দেয় এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করে। তবে ব্যক্তির ত্বকের ধরণ ও সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ত্বকের ওপর নিম্ন AQI-এর মারাত্মক প্রভাব
১. ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হওয়া ও ব্রণ: বাতাসে থাকা ধূলিকণা ও রাসায়নিক তেল-ময়লার সাথে মিশে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ঘনঘন ব্রণ ও ব্লাকহেডসের সমস্যা দেখা দেয়।
২. বলিরেখা ও পিগমেন্টেশন: পিএম ২.৫ কণা ত্বকের স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে অল্প বয়সেই মুখে বলিরেখা, ফাইন লাইনস এবং কালচে ছোপ পড়ে।
৩. অ্যালার্জি ও শুষ্কতা: বিষাক্ত ধোঁয়াশা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার স্তর ভেঙে ফেলে। এর ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং র্যাশ বা জ্বালাভাবের মতো অ্যালার্জিজনিত সমস্যা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় ত্বক ঢেকে রাখার পাশাপাশি বাড়ি ফিরে ভালোভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ত্বকের সুরক্ষায় নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার এবং ভালোমানের সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।