কালীপুজোর আগেই দারুণ উপহার! মায়াপুর থেকে সরাসরি তারাপীঠ চালু হলো সরকারি বাস

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরেই আলোয় সেজে উঠবে চারদিক, শুরু হবে দীপাবলি ও কালীপুজো। আর এই পবিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বীরভূমের বিখ্যাত সতীপীঠ তারাপীঠে ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ ভক্ত। সাধারণত তারাপীঠ যাওয়ার জন্য পুণ্যার্থীরা ট্রেনের ওপরই বেশি ভরসা করেন। তবে আপনি যদি মায়াপুরের বাসিন্দা হন কিংবা মায়াপুর ইসকন মন্দির দর্শন করে সরাসরি তারাপীঠে মা তারার চরণে পুজো দিতে চান, তবে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক এক সুখবর!

এখন আর ট্রেনের ভিড় বা কানেক্টিং ট্রেন ধরার ঝক্কি পোহাতে হবে না। এবার সরাসরি সরকারি বাসে চেপেই খুব কম সময়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে তারাপীঠে। উৎসবের মরশুমে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (SBSTC) মায়াপুর থেকে তারাপীঠ (Mayapur Tarapith Bus) সরাসরি সরকারি বাস পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে দিল।

এক সুতোয় বাঁধা পড়ল দুই আন্তর্জাতিক ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র

নদীয়ার মায়াপুর এবং বীরভূমের তারাপীঠ— দুটি স্থানই দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সারা বছরই এই দুই পূর্ণভূমিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। এতদিন এই দুই জায়গার মধ্যে সরাসরি সুবিধাজনক গণপরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের বেশ কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হতো। কিন্তু SBSTC-র এই নতুন বাস পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে মায়াপুর থেকে সরাসরি তারাপীঠ এবং রামপুরহাট যাওয়া বহুগুণ সহজ হয়ে গেল। এই উদ্যোগে সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে বয়স্ক তীর্থযাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

বাসের সঠিক সময়সূচি ও রুট

আপনিও যদি কালীপুজোর এই মরশুমে মায়াপুর থেকে তারাপীঠ যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে যাত্রার আগে বাসের সময়সূচি ও রুটটি একনজরে দেখে নিন:

  • রামপুরহাট যাওয়ার সময়:

    • মায়াপুর ইসকন মন্দির থেকে বাসটি ছাড়বে: সকাল ৭টায়

    • বহরমপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে: সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে

  • মায়াপুর ফেরার সময়:

    • রামপুরহাট থেকে বাসটি ছাড়বে: দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে

    • তারাপীঠ থেকে ছাড়বে: দুপুর ২টো ৪০ মিনিটে

বাসটি কোন কোন রুটে চলবে?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সরকারি বাসটি মায়াপুর ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করবে। এরপর ধুবুলিয়া, বেথুয়াডহরি, পলাশী, রেজিনগর, বেলডাঙা, বহরমপুর, কান্দি, খড়গ্রাম এবং বুধিগ্রাম হয়ে তারাপীঠ ও রামপুরহাট পর্যন্ত পৌঁছাবে।

বাসের ভাড়া কত?

এই নতুন রুটের নির্দিষ্ট বাস ভাড়া কত ধার্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে বিশদ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে দূরত্বের তুলনায় এই বাস ভাড়া অত্যন্ত সাশ্রয়ী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যে সকল যাত্রী এই বাসে যাত্রা করতে চান, তাঁরা নিকটবর্তী SBSTC-এর বাস ডিপো বা কাউন্টারে গিয়ে ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পারেন।