কালীপুজোর আগে কি ফের দুর্যোগ? কলকাতায় শুরু বৃষ্টি, কালই ১০ জেলায় আবহাওয়ার বড় বদল!

সকাল থেকেই আংশিক মেঘলা থাকার পর অবশেষে কলকাতার আকাশ ঢাকল কালো মেঘে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহানগরীসহ সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়ে গেছে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সত্যি করে সোমবার দুপুর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মুখ ভার করেছে বরুণদেব।
অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার দোরগোড়ায় রয়েছে ‘মুরাসু’। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ কোনো বড় দুর্যোগ এ রাজ্যে না ঘটলেও, এর জেরে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।
মঙ্গলবার ১০ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী কাল অর্থাৎ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দক্ষিণবঙ্গের ১০টি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে—
উত্তর ২৪ পরগনা
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
কলকাতা
হাওড়া
হুগলি
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর
পুরুলিয়া
বাঁকুড়া
ঝাড়গ্রাম
এই ১০ জেলার দু-এক জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। আগামী ৪ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আগামী ৩ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের সব জেলার কিছু কিছু এলাকায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৪ নভেম্বর প্রধানত দার্জিলিং ও কালিম্পঙের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে ৪ তারিখের পর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র প্রভাবে উত্তাল হতে চলেছে সমুদ্র। নিরাপত্তার খাতিরে মৎস্যজীবীদের আগামী ৪ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর, সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে মৎস্যজীবীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে হাওয়া অফিস। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সমুদ্র অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও উত্তাল থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।