কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আছড়ে পড়ছে শক্তিশালী সাইক্লোন ‘মুরাসু’! তামিল নামের এই ঝড়ে কতটা কাঁপবে বাংলা?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ক্রমশ তার শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে স্থলভাগের দিকে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে তীব্র গতিতে এগোচ্ছে এই সাইক্লোন। সোমবার মাঝরাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে এটি নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে (ল্যান্ডফল) পারে। ল্যান্ডফলের সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘মুরাসু’ নামের নেপথ্যে লুকিয়ে প্রাচীন ঐতিহ্য:
উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো ঝড়ের নাম তামিল ভাষা থেকে নেওয়া হলো। ‘মুরাসু’ শব্দটির উৎস তামিল সংস্কৃতি। এটি মূলত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তামিল বাদ্যযন্ত্র, যা দেখতে ঢাকের মতো এবং অত্যন্ত প্রবল শব্দের জন্য পরিচিত। প্রাচীনকালে এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েই সাধারণ মানুষকে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা বিপদের খবর জানিয়ে সতর্ক করা হতো।
চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রধান এস বালাচন্দ্রনের উদ্যোগে এই নামটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২০ সালে যখন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র কাছে নতুন নামের প্রস্তাব চাওয়া হয়, তখন উচ্চারণ সহজ রাখা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার শর্ত মেনে ‘মুরাসু’ নামটি অনুমোদিত হয়।
অন্ধ্রে ল্যান্ডফল, বাংলায় কতটা প্রভাব?
যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল, তবে এর পরোক্ষ প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সরাসরি আঘাত না হানলেও ঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই আকাশ মেঘলা রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ৯টি জেলায় টানা বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উপকূলে লাল সতর্কতা জারি করে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।