পুরোনো বন্ধুত্বের বার্তা নাকি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মাস্টারপ্ল্যান? দিল্লির বুকে সোনিয়া-লালু সাক্ষাতে শোরগোল

অসুস্থ রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এবং তাঁর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করতে দিল্লির বাসভবনে হাজির হলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সোমবার রাজধানীতে আরজেডি প্রধানের জ্যেষ্ঠ কন্যা তথা সাংসদ মিশা ভারতীর বাসভবনে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে এই বৈঠক করেন ইউপিএ-র প্রাক্তন চেয়ারপারসন।
দুই বর্ষীয়ান নেতার আন্তরিক সাক্ষাতের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে লালু-পুত্র তথা বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব জানান, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী নিজেই তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ভাববিনিময় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
চিকিৎসাধীন লালু প্রসাদ যাদব: উল্লেখ্য, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকেই লালু প্রসাদ যাদবকে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার (Medical Check-up) মধ্যে থাকতে হয়। সম্প্রতি পাটনা এইমসে কিছুদিন ভর্তি থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দিল্লি এইমসে নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তিনি কন্যা মিশা ভারতীর বাসভবনেই বিশ্রাম নিচ্ছেন। আরজেডি প্রধানের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল ও ভালো।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মেগা সমাবেশের সময়ই সোনিয়া গান্ধী জানতে পারেন যে লালু প্রসাদ যাদব এই মুহূর্তে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি তেজস্বী যাদবকে ডেকে জানান, সোমবার তিনি নিজে লালু প্রসাদের সঙ্গে দেখা করতে চান।
সোনিয়া-লালুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রসায়ন: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে লালু প্রসাদ যাদব দেশের সফল রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে আসার সময় থেকেই তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত সুদৃঢ়। অতীতে যখন বিজেপি কংগ্রেস প্রধানকে ‘বিদেশিনী’ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল, তখন জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে সোনিয়া গান্ধীর পাশে শক্ত স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন লালু প্রসাদ।
এমনকী ২০০৪ সালে বাজপেয়ী সরকারের পতনের পর সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে সরকার গড়ার প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন এই লালু প্রসাদই। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে পরমাণু চুক্তির ইস্যুতে ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে বামেরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে, কংগ্রেস সরকারকে রক্ষা করতে মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লালু প্রসাদই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরজেডি এবং কংগ্রেস উভয় দলই বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যতম স্তম্ভ। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের ঐক্য প্রদর্শনের পরদিনই সোনিয়া-লালুর এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং চব্বিশের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।