জেসিবির ধাক্কায় গ্যাস পাইপলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! শিশুসহ মৃত অন্তত ৫, মুজফ্ফরপুরে হুড়মুড়িয়ে গুঁড়িয়ে গেল দোকানপাট

নর্দমা তৈরির কাজ চলাকালীন জেসিবির (JCB) আকস্মিক ধাক্কায় ফেটে গেল গ্যাস পাইপলাইন। আর তার জেরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ বিস্ফোরণ! এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তীব্র বিস্ফোরণের অভিঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে আশেপাশের বেশ কয়েকটি দোকানপাট। ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যাওয়ায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসনের চরম গাফিলতির অভিযোগ ও বিক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ সরাসরি প্রশাসনের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, জেসিবির আঘাতে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেই তাঁরা তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রশাসন সময়মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আর সেই চরম গাফিলতির ফলেই এই ভয়াবহ পরিণতি দেখতে হলো সাধারণ মানুষকে। দুর্ঘটনায় ওই জেসিবি চালকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই ক্ষিপ্ত বাসিন্দারা গোবরশাহী থেকে সাকরি-সরাইয়াগামী প্রধান রাস্তা অবরুদ্ধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, প্রশাসন ও দমকল বাহিনী। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মুজফ্ফরপুরে গ্যাস ও শিল্প দুর্ঘটনা নতুন নয়: স্থানীয়দের মতে, মুজফ্ফরপুরে এই ধরনের ভয়াবহ গ্যাস লিক বা বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই শহর—
২০১৬ সালের ১৬ জুলাই: একটি স্কুলের কাছে নর্দমা কাটার সময় ইন্ডিয়ান অয়েলের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন কেটে যায়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে পাশের হাইস্কুলের পাঁচ পড়ুয়া সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল।
তার ঠিক এক মাস পর: অঘোরিয়া বাজারের একটি বরফ কলে পাইপলাইন ফেটে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করতে শুরু করে। দমকলের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
একই বছরের ২০ অক্টোবর: পারু এলাকার একটি বাড়িতে রান্না করার সময় পরপর দুটি এলপিজি সিলিন্ডার ফেটে পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও সবকিছু ছাই হয়ে যায়।
২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর: সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বেলা ফেজ-২ এলাকার একটি নুডলস কারখানায়। বয়লার বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন সাতজন শ্রমিক। প্রায় দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছিল সেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ।
বারবার ঘটে চলা এই ধরনের দুর্ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠছে জনবহুল এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি ও সুরক্ষার মান নিয়ে। রবিবারের এই বিস্ফোরণের জেরে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।