ওমানে ধরা পড়ল ভারতের সবচেয়ে বড় জোচ্চোর! মহাদেব অ্যাপের মাস্টারমাইন্ড সৌরভ ভারতে ফিরতেই তুমুল চাঞ্চল্য

ছত্তীসগঢ়ের ভিলাইয়ের এক সাধারণ জুসের দোকান থেকে শুরু হয়েছিল ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বেআইনি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সাম্রাজ্য। মাসে মাত্র ১৫ হাজার টাকা আয় করা ভিলাইয়ের সেই যুবক সৌরভ চন্দ্রকরই পরবর্তীতে দুবাইয়ে বসে তৈরি করেছিলেন বিশ্বব্যাপী অপরাধের এক বিশাল নেটওয়ার্ক। হাজার হাজার এজেন্ট, বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চ্যানেল এবং অফশোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার এই কাণ্ডে এখন তোলপাড় গোটা দেশ।

কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর চাঞ্চল্যকর হিসেব অনুযায়ী, সৌরভের তৈরি ‘মহাদেব অনলাইন বুক’ (Mahadev Online Book) সহ স্কাই-এক্সচেঞ্জ ও লোটাস-৩৬৫ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গত এক দশকে বেআইনিভাবে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ৯৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা!

অবশেষে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক জয় মিলল। ওমানের রয়্যাল ওমান পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর রবিবার (১ নভেম্বর) সিবিআই-এর (CBI) বিশেষ উদ্যোগে দুবাই ও ওমান হয়ে সৌরভ চন্দ্রকরকে ভারতে প্রত্যর্পণ (Extradition) করে নিয়ে আসা হয়েছে।

জুসের দোকান থেকে আন্তর্জাতিক মাফিয়া সাম্রাজ্য: সিবিআই এবং ইডির দায়ের করা একাধিক আর্থিক কারচুপি, সাইবার প্রতারণা ও অর্থ তছরুপের (Money Laundering) মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন এই সৌরভ চন্দ্রকর।

ভিলাইয়ে নিজেদের পারিবারিক ‘জুস ফ্যাক্টরি’র দোকানে কাজ করার সময় রবি উপ্পল নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই সাধারণ পরিচয়ই পরে বদলে যায় মারাত্মক অপরাধের যৌথ পার্টনারশিপে। দুজনে মিলে জুসের ব্যবসা ছেড়ে রাতারাতি ফাঁদেন অনলাইন জুয়ার বেআইনি ব্যবসা। ধীরে ধীরে ভারত থেকে নিজেদের জাল ছড়িয়ে দেন দুবাইয়ে। ওমানের হাত ধরে ভারতে সৌরভকে ফিরিয়ে আনার পর এখন ইডি ও সিবিআই-এর মূল লক্ষ্য হলো, এই ৯৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকার অপরাধের সাম্রাজ্যে যুক্ত থাকা অন্যান্য রাঘববোয়ালদের মুখোমুখি দাঁড় করানো।