‘ভারত সাধারণ কোনো দেশ নয়!’ চরম কূটনৈতিক পরিবর্তনের মুখে বিশ্বের নজরকাড়া বড় মন্তব্য কানাডার!

বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও বিশ্বনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশকে এবার প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ভারতকে কোনো সাধারণ ‘মধ্যম শক্তির দেশ’ হিসেবে মানতে নারাজ তিনি। স্পষ্ট ভাষায় কার্নি জানিয়েছেন, “আমি ভারতকে কখনোই মধ্যম শক্তি বলব না। কানাডা হয়তো সেই তকমায় সন্তুষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু ভারতের গতিপথ, লক্ষ্য এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ আলাদা।”
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অলিন্দে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে ভারতে এসে নয়াদিল্লি ও মুম্বইয়ে একাধিক সরকারি এবং শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন কার্নি। বিগত কিছু সময়ে দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন সামলে এক নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা করতেই তাঁর এই সফর।
সাধারণত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘মধ্যম শক্তি’ বলতে সেই সব দেশকে বোঝায়, যাদের প্রভাব আছে কিন্তু তারা কোনো পরাশক্তি নয়। কানাডা নিজেকে এই সারিতে রাখলেও, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিশাল জনসংখ্যা, সামরিক সামর্থ্য এবং শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান ভারতকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন কার্নি।
এই স্বীকারোক্তির নেপথ্যে কানাডার নিজস্ব কিছু কৌশলগত সুবিধাও লুকিয়ে রয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়ে কানাডা এখন নতুন ও বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদারের খোঁজে। সেই তালিকায় ভারতের গুরুত্ব সবার উপরে। ভারত-কানাডা ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (CEPA) আলোচনা তরান্বিত করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোই এখন ওটাওয়ার প্রধান লক্ষ্য।
একসময়ের ‘উন্নয়নশীল’ বা ‘আঞ্চলিক শক্তি’ তকমা ঝেড়ে ফেলে ভারত আজ যে বিশ্বরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে চালকের আসনে বসতে চলেছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা যেন তারই আন্তর্জাতিক সিলমোহর।