নির্বাচনের আগেই পঞ্জাবের রাজনীতিতে বিরাট উলটপুরাণ! বিজেপি-আপকে বাদ দিয়ে কোন দলের হাত ধরল অকালি দল?

২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে ময়দানে নামার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল ও নজিরবিহীন রদবদল ঘটল। প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU) কাদিয়াঁ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শিরোমণি অকালি দল (SAD)-কে নিজেদের সম্পূর্ণ ‘বিনা শর্তে’ সমর্থন জানানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। কৃষক নেতাদের এই একক ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসক দল আম আদমি পার্টি (AAP) এবং প্রধান বিরোধী দলগুলির অন্দরে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিকেইউ কাদিয়াঁর সভাপতি হরমিত সিং কাদিয়াঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কৃষকদের ন্যায়সংগত দাবি-দাওয়া দিনের পর দিন উপেক্ষা করা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ভোটাধিকারকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হরমিত সিং কাদিয়াঁ বলেন, “আমাদের রাজ্য কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে শিরোমণি অকালি দলকে সমর্থন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসল লড়াইটা হলো ব্যালট বাক্সে আমাদের ভোটের শক্তি সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করা। বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে অন্নদাতাদের দাবি অগ্রাহ্য করে এসেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শাসকগোষ্ঠী যেখানে সবচেয়ে বেশি আঘাত পায়, ঠিক সেখানেই অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেব। আমরা এমন একটি নতুন সরকার গঠনে অংশ নেব যা পঞ্জাবের মাটি ছেড়ে কোথাও যাবে না এবং রাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করবে।”

এই অভূতপূর্ব সমর্থন পাওয়ার পর বিকেইউ কাদিয়াঁর সভাপতি ও দলের সমস্ত সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিরোমণি অকালি দলের সুপ্রিমো সুখবীর সিং বাদল। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বাদল লেখেন, “পঞ্জাবের আঞ্চলিক অকালি দলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের জন্য হরমিত সিং কাদিয়াঁ এবং তাঁর পুরো টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ। শিরোমণি অকালি দলই পঞ্জাবের একমাত্র খাঁটি আঞ্চলিক শক্তি, যা সবসময় কৃষক ও মেহনতি মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে।” এর পাশাপাশি বাদল রাজ্যের সমস্ত কৃষক ও শ্রমিক ইউনিয়নকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তাঁদের সরকার ক্ষমতায় আসলে কৃষিকাজকে লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে বিশেষ নীতি প্রণয়ন করবে।

অন্যদিকে, এই মেগা রাজনৈতিক সমীকরণকে স্বাগত জানিয়ে অকালি দলের প্রবীণ নেতা দলজিৎ সিং চিমা বলেছেন যে, বিকেইউ কাদিয়াঁ হলো পঞ্জাবের মাটি ও প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা এক বিশাল শক্তিশালী সংগঠন। ২০২৭ সালের মহারণের আগে কিষাণ ইউনিয়নের এই সমর্থন অকালি দলকে নতুন অক্সিজেন জোগাবে। বিগত কৃষক আন্দোলন ও ভোটব্যাঙ্কের মেরুকরণের মাঝে অকালি দলের পালে কৃষক সংগঠনের এই হওয়া পঞ্জাবের মসনদের লড়াইতে এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা করল