কার গাফিলতিতে সর্বস্বান্ত হলেন ব্যবসায়ীরা? রামলীলা ময়দানের রাজনৈতিক সমাবেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ রাজধানীতে!

উৎসবের মরশুম ও দীপাবলির মেগা কেনাকাটার ঠিক প্রাক্কালে রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গত রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার বিশাল লোকসান হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে দিল্লির প্রধান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন—চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, রবিবার সমাবেশ চলাকালীন শহরের কেন্দ্রস্থলের সমস্ত প্রধান বাণিজ্যিক বাজার জোর করে বন্ধ রাখতে বাধ্য করায় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা থেকে শুরু করে হোটেল ও পরিবহন শিল্পে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের এখন একটাই প্রশ্ন—তাঁদের এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে?
সিটিআই (CTI)-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রবিবারের ওই এক দিনের রাজনৈতিক সমাবেশে দিল্লির বাণিজ্য জগতে সরাসরি প্রায় ১১,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রামলীলা ময়দানের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত কাশ্মীরি গেট, চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, করোলবাগ, পাহাড়গঞ্জ, দরিয়াগঞ্জ, জামা মসজিদ, খারি বাওলি এবং চাওরি বাজার-সহ প্রধান বাজারগুলির প্রায় ৩ লক্ষ দোকানের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকানই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এর জেরে কেবল খুচরা ও পাইকারি বেচাকেনায় এক দিনেই ৮,৮০০ কোটি টাকার বিশাল লোকসান হয়েছে।
পাশাপাশি, রামলীলা ময়দানের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কনট প্লেস, কারোল বাগ ও চাঁদনি চকের মতো সেন্ট্রাল দিল্লির ২ হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও গেস্ট হাউসে প্রচুর বুকিং শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে আতিথেয়তা শিল্প। এর পাশাপাশি দোকানপাট বন্ধ থাকায় হকার, ই-রিকশা ও অটো চালক, কুলি, লোডার এবং খেটে খাওয়া হাজার হাজার শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের একদিনের নিশ্চিত রুজি-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
উৎসবের মরশুমে এই সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের কাছে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সিটিআই। কিন্তু সেই আর্জি অগ্রাহ্য করায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে, রাজধানীজুড়ে দোকানপাট বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলে পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকারই ইচ্ছাকৃতভাবে দিল্লির দোকানপাট বন্ধ রেখেছে। তবে এই রাজনৈতিক তরজাঁর মাঝে দীপাবলির প্রাক্কালে ব্যবসায়ীদের এই বিপুল আর্থিক ধাক্কা গোটা রাজধানীতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।