অপারেশন থিয়েটারে নেই গ্লাভস-সিরিঞ্জ! আরজি করে চরম সংকটের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জীবনদায়ী চিকিৎসা সামগ্রীর মারাত্মক অভাব রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (ডব্লিউবিজেডিএফ)। হাসপাতালের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ‘নট অ্যাভেলেবল’ বা এনএ (NA) তালিকা প্রকাশ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সংগঠনটি। প্রকাশিত ওই তালিকায় স্টেরাইল গ্লাভস, সুচ, সিরিঞ্জ, অ্যান্টিসেপটিক সলিউশনের মতো অতি প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী তো বটেই, এমনকি অপারেশন ও অ্যানেস্থেশিয়া এবং প্রসূতি চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি ও জীবনদায়ী ওষুধের নামও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই বেহাল দশা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই মঞ্চ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুধু একা আরজি কর হাসপাতালেই নয়, বরং রাজ্যের একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও ঠিক একই ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট চলছে। ওটি-র ভেতরে যদি এমন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রই না থাকে, তবে জটিল অস্ত্রোপচার এবং অ্যানেস্থেশিয়ার পরিষেবা কীভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। ডব্লিউবিজেডিএফ-এর প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, মেফেনটারমিনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সেখানে অনুপস্থিত, যা সাধারণত অ্যানেস্থেশিয়ার সময়ে রোগীর রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, গর্ভবতী মহিলাদের এক্লাম্পসিয়ায় খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ম্যাগনেসিয়াম সালফেটও পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। এছাড়াও বিভিন্ন মাপের এন্ডোট্র্যাকিয়াল টিউব, অক্সিজেন মাস্ক, নেবুলাইজেশন মাস্ক এবং কোলোস্টোমি ব্যাগের মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসেরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, কোথাও কোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসার উপকরণের জোগান যথাযথ না থাকলে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ (Principal) এবং এমএসভিপি (MSVP)-র হাতে বর্তমানে ৫০ লক্ষ টাকা করে অতিরিক্ত আর্থিক বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি হাসপাতালের জন্য এককালীন মোট এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০ লক্ষ টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কেনার জন্য তহবিলে কোনো অর্থের অভাব থাকার কথাই নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরও পরামর্শ, কোনো সামগ্রী সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগাম সতর্ক হতে হবে এবং সময়মতো তালিকা তৈরি করে অন্তত এক মাস আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে, যাতে প্রশাসন ও স্টোরের কর্মীদের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় থাকে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ডব্লিউবিজেডিএফ জানিয়েছে যে, অবিলম্বে এই এনএ তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। কেন জোগান নেই এবং কবে সেই সামগ্রীগুলি হাতে পাওয়া যাবে, তার স্পষ্ট জবাবদিহি চেয়েছে তারা। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই বেহাল পরিকাঠামোগত চিত্রটি তুলে ধরলেই চিকিৎসকদের একাংশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মাওবাদী ডাক্তার’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। চোরবাগান কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতাটার প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি নিয়ে কথা বলাকে এভাবে লঘু করা উচিত নয়। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবাকে উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি নিয়েই তাঁদের এই প্রতিবাদ আন্দোলন জারি থাকবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের এই সংগঠন।