১০ লাখের ভিড় না খালি চেয়ার? রামলীলার সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে বিজেপি-ইন্ডিয়া ব্লকের হাই-ভোল্টেজ ড্রামা!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র আয়োজিত মহা সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক পারদ চড়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-কে কেন্দ্র করে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই জনসভায় কত মানুষের জমায়েত হয়েছিল, তা নিয়ে হাত ও গেরুয়া শিবিরের তরজা এখন তুঙ্গে। এই বিতর্কে এবার ঘি ঢাললেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া জনসমাগমের ছবি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর সরাসরি অভিযোগ এনেছেন তিনি। বিজেপি নেতার কটাক্ষ, ভুয়ো ছবি তৈরি করলেও সেটি ঠিকঠাক রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেসের আইটি ও ন্যারেটিভ টিম।

রবিবার, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রদর্শন হিসেবে এক ছাদের তলায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিরোধী ব্লকের শীর্ষ নেতারা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক হাই-প্রোফাইল মুখ সেখানে বক্তব্য রাখেন। সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তোলে বিরোধী পক্ষ। সভার আগে বিরোধীদের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এই প্রতিবাদী সমাবেশে যোগ দেবেন। তবে সভা শেষ হতেই সেই পরিসংখ্যান নিয়ে শুরু হয়ে যায় জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর।

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করে কিরেন রিজিজু দাবি করেন, রামলীলা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ দেখানোর জন্য কংগ্রেস এআই-নির্মিত ছবির আশ্রয় নিয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘রামলীলা ময়দান মানুষের ভিড়ে ঠাসা দেখানোর জন্য অন্তত AI-টা ঠিকঠাক ব্যবহার করা উচিত ছিল কংগ্রেসের।’ শুধু রিজিজুই নন, বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ও সাংসদ সম্বিত পাত্রও বিরোধীদের এই দাবিকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন, সভাস্থলে সর্বসাকুল্যে ২৮ হাজার চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যেই ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ার ফাঁকা পড়েছিল। তাঁর মতে, ময়দানের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকাই থেকে যায়, ফলে ১০ লাখের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ উ উড়িয়ে দিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক দাবি করেছে যে, দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় রামলীলা ময়দানের সভা ছিল একটি ঐতিহাসিক সফলতা। বিরোধী নেতাদের মতে, জনসমক্ষে মানুষের ক্ষোভ ও উপস্থিতি দেখে বিজেপি শাসকদল দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং সেই কারণেই মূল দাবি থেকে নজর ঘোরাতে ভুয়ো অভিযোগের সাহায্য নিচ্ছে। একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগ, আর অন্যদিকে সভায় আসল জনসমাগমের সংখ্যা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ—সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে তাপমাত্রা এখন পূর্ণমাত্রায় বিরাজ করছে।