সিনেমায় আসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না! তবুও কীভাবে বাই চান্স ভাগ্য বদলে কিং খান হলেন শাহরুখ?

তিনি নিজেই একসময় সগর্বে বলেছিলেন, এই প্রজন্মের শেষ সুপারস্টার তিনিই। কিন্তু আবার তিনিই একাধিক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে, রুপোলি পর্দায় অভিনয় করার বা সিনে দুনিয়ায় আসার বিন্দুমাত্র কোনো ইচ্ছে বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর কস্মিনকালেও ছিল না। তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে, অভিনয়ের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিনোদন জগতের সঙ্গে তাঁর আলাপ হলো? আর কোন জাদুমন্ত্রেই বা তিনি হয়ে উঠলেন গোটা একটা প্রজন্মের আবেগ ও ভালোবাসার চূড়ান্ত ঠিকানা? কার কথাই বা বলা হচ্ছে, তা বুঝতে আর বাকি নেই। তিনি আর কেউ নন, বলিউডের অসংবাদিত সম্রাট তথা আজকের ‘বার্থডে বয়’ শাহরুখ খান।
অতীতের এক দীর্ঘ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান নিজেই বিশদে জানিয়েছিলেন যে, সেলুলয়েডের দুনিয়ায় তাঁর পা রাখা স্রেফ ভাগ্যের নির্মম ও সুন্দর পরিহাস মাত্র। কোনো রকম দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যানিং ছাড়াই আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তাঁর ফিল্মি কেরিয়ার শুরু হয়েছিল। সেই বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিং খান স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “আমাদের সেই বিখ্যাত ‘ফৌজি’ শো অনএয়ার হওয়ার পরই তা রাতারাতি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দর্শকরা পর্দায় আমাকে ভীষণ পছন্দ করেন। ঠিক তারপর থেকেই আমি একের পর এক ছবির অফার পেতে শুরু করি। কিন্তু সত্যি বলতে কী, তখন সিনেমা করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার ছিল না। সেই কারণে আমি পরিচালক-প্রযোজকদের অফারগুলো পাত্তাই দিতে চাইতাম না। তাছাড়া, সেই সময়ে আমি আমার মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ফিল্ম নিয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না বললেই চলে।”
শাহরুখ আরও যোগ করেছিলেন, “ফৌজির পর আমি আরও কয়েকটি টেলিভিশন শো করি—যেমন ‘দিল দরিয়া’, ‘উমিদ’ এবং তারপরে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সার্কাস’। এই কাজগুলোর পরই মুম্বইয়ের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আমাকে ফোন করা শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন যে আসল সিনেমা তো বম্বেতেই তৈরি হয়, কাজেই তোমার এখানে চলে আসা উচিত। বিশেষ করে হেমা মালিনীজি এবং রমেশ সিপ্পি সাহেবের মতো ব্যক্তিত্বরা আমায় ফোন করেন, কথা বলেন। তাঁদের উৎসাহেই আমি প্রথম বম্বেতে আসি এবং এসেই একসঙ্গে পাঁচটা ছবিতে সই করে ফেলি। কিন্তু সত্যি বলতে, সেই সময় পুরো ব্যাপারটাই আমার কাছে একটা নিছক এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছিল। আমি মনে মনে ভেবেছিলাম যে এই গুটিকয়েক ছবি মাত্র এক বছরের জন্য করব, আর তারপর দেখব কী হয়।”
‘কী হয়’, তা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। এরপর যা ঘটেছিল, তা শুধু শাহরুখ একা নন, বরং গোটা ভারত তথা বিশ্ববাসী সাক্ষী থেকেছে। উল্কার গতিতে অভূতপূর্ব খ্যাতি ও অকল্পনীয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর মোহময়ী হাসি, উইট এবং অভিনয়ের জাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন কোটি কোটি দর্শক। রাতারাতি তারকা থেকে মহাতারকা বনে যান তিনি। আজ শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই নয়, বরং গোটা পৃথিবীর আনাচেকানাচে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর অন্ধ অনুরাগীদের বিশাল পরিবার।
আজ, ২ নভেম্বর, বর্ণময় জীবনের সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে ৬১ বছরে পা দিলেন বলিউডের এই চিরসবুজ বাদশা। ভক্তদের উন্মাদনার মাঝেই সামনে এসেছে তাঁর আসন্ন বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’-এর বিশেষ গান ও প্রজেকশন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও তাঁর জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাদশার বয়স বাড়লেও, তাঁর মোহময়ী জাদু যে আজও অটুট, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন কোটি কোটি হৃদয়ের এই যুবরাজ।