ঘরে কি পুরনো সোনা আছে? তাড়াহুড়োয় বিক্রি করলেই পস্তাবেন, কোটি টাকার প্রতারণা থেকে বাঁচতে এখনই জানুন এই ৫টি মারাত্মক সিক্রেট!

চলতি ২০২৬ সালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই বছরেই সোনার দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনার এই রেকর্ড দাম দেখে আপনার মনে হতেই পারে যে, ঘরে জমানো পুরনো সোনার গয়না বিক্রি করে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এটিই একেবারে মোক্ষম সময়। কিন্তু বাস্তবে পুরনো সোনা বিক্রি করা যতটা সহজ বা লাভজনক মনে হয়, ব্যাপারটি ঠিক ততটা সহজ নয়। এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক জটিল হিসেব-নিকেশ ও কারচুপির ফাঁদ। যদি আপনি না বুঝে অসাবধানতাবশত পুরনো সোনা বিক্রি করতে ছোটেন, তবে অসৎ ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
পুরনো সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বিষয়টি হলো ‘নেট সোনার ওজন’। গয়নার মধ্যে থাকা পাথর, মীনাকারি বা অন্য কোনো অতিরিক্ত মেটালের ওজন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র খাটি সোনার ওজন মাপা হয়। স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত জিনিস বাদ পড়ায় আপনার গয়নার সামগ্রিক দাম অনেকটাই কমে যায়। এছাড়াও, আপনি যে দামে সোনা বিক্রি করতে যাবেন, দোকানি অনেক সময় তার থেকে অনেক কম দাম অফার করতে পারে। তাই গয়না পাকাপাকিভাবে হাতবড়ানোর আগে সমস্ত হিসাব খুঁটিয়ে বুঝে নিন, অন্যথায় পরবর্তীতে অনর্থক তর্কাতর্কি বাড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেকিং চার্জ। নতুন গয়না কেনার সময় আপনি যে মেকিং চার্জ বা তৈরির খরচ মিটিয়েছিলেন, পুরনো সোনা বিক্রির সময় সেই টাকা আপনি একেবারেই ফেরত পাবেন না। বিশেষ করে নামী ও বড় বড় গয়নার দোকানগুলিতে মেকিং চার্জ অনেক বেশি হয়ে থাকে, যার ফলে বিক্রির সময় বড় অংকের টাকা কাটা যায়। পাশাপাশি, সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করার জন্য অনেক দোকানি তাদের নিজস্ব ভ্যালুয়েশন পলিসি বা পরীক্ষামূলক খরচের নামে কিছু টাকা কেটে রাখতে পারে। তাই এই সমস্ত গোপনীয় বিষয়গুলি আগে থেকেই পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই খেয়াল রাখবেন, বর্তমানের BIS হলমার্ক যুক্ত যেকোনো গয়নায় একটি ৬ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন বা HUID কোড থাকে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই ‘BIS Care’ অ্যাপের মাধ্যমে গয়নার বিশুদ্ধতা যাচাই করে নিন, যাতে কেউ আপনাকে সহজে ঠকাতে না পারে। এছাড়া, আপনি গয়নাটি কোথা থেকে কিনেছিলেন, সেই আসল ক্যাশ মেমো বা ক্রয় সংক্রান্ত ইনভয়েস এবং অন্যান্য বৈধ নথিপত্র সবসময় আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। অনেক সময় আসল রসিদ না থাকলে দোকানি কম দাম দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিশেষে মনে রাখা ভালো, আমরা কাউকে কোনো কিছু কেনা বা বিক্রির প্রত্যক্ষ পরামর্শ দিই না, এখানে কেবল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই যেকোনো সোনা কেনা বা বিক্রির বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ বাজার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।