পরিবার ভাবত মেয়েটি লন্ডনে পড়ছে! পুনের বন্ধ ফ্ল্যাটে কীভাবে পৌঁছাল খাবার ডেলিভারি বয়? উদ্ধার পচাগলা দেহ

পরিবার জানত তিনি সুদূর লন্ডনে বসে এমবিএ (MBA) পড়ছেন। অথচ হাজার হাজার মাইল দূরে নয়, নিজ দেশ ভারতেরই এক বহুতলের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো ৩৪ বছর বয়সী তরুণীর গলিত ও নিথর দেহ। পুনের এক ভাড়ার ফ্ল্যাটে তরুণীর এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক পরিণতি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়। মৃত তরুণীর নাম মুগ্ধা দেশমুখ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, খাবার ডেলিভারি এজেন্টের সতর্কতার সূত্র ধরেই পুনে পুলিশ ওই বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে মুগ্ধার দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন—পরিবারকে না জানিয়ে কেন গোপনে দেশে ফিরেছিলেন মুগ্ধা? আর বন্ধ ফ্ল্যাটের ভেতরেই বা তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবার জানত লন্ডনে, যোগাযোগ ছিল কেবল ফোনেই
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত মুগ্ধা দেশমুখ মূলত মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শম্ভজিনগরের বাসিন্দা ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য গত বছর জুলাই মাসে তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন লন্ডনে। সেখানে একটি এমবিএ কোর্সে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে খণ্ডকালীন (Part-time) কাজও করতেন তিনি।
পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও, তা সীমাবদ্ধ ছিল কেবল ফোন কল আর বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমেই। তবে মাসখানেক আগে পরিবারকে বিন্দুমাত্র টের না পেতে দিয়েই তিনি লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কিছু না জানিয়ে পুনের একটি ভাড়ার ফ্ল্যাটে একাই থাকতে শুরু করেছিলেন তরুণী।
রহস্য খুলল খাবার ডেলিভারির সূত্রে
ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে তরুণী অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু ডেলিভারি বয় খাবার পৌঁছে দিতে এলে দরজায় কড়া নেড়ে এবং বারবার ফোন করেও তরুণীর কোনো সাড়া পাননি। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল দুর্গন্ধ। এরপরেই সন্দেহ হওয়ায় ওই ফুড ডেলিভারি এজেন্ট বিষয়টি আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পুনে পুলিশকে জানান।
পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই হতবাক হয়ে যায়। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় মুগ্ধার মৃতদেহ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বাড়ছে রহস্যের জট
শিক্ষিত এক তরুণী কেন পরিবারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিদেশ থেকে ফিরে এসে গোপনে পুনেতে একা থাকতে শুরু করলেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই পরিষ্কার হবে এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় অপরাধ চক্র বা ষড়যন্ত্র। তরুণীর মোবাইল ফোন ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করে রহস্যের জট খোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।