স্কুলের মধ্যেই ৬ বছরের শিশুর ওপর নৃশংস হামলা! রক্তে ভেসে গেল ক্লাসরুম, হরিয়ানার ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ

मानवताকে লজ্জিত ও স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে হরিয়ানার পঞ্চকুলায়। গত ২৮ অক্টোবর পঞ্চকুলার সেক্টর ২০-র ‘শহীদ মেজর অনুজ রাজপুত গভর্নমেন্ট মডেল সংস্কৃতি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল’-এ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। স্কুলের ভেতর তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র মাত্র ছয় বছরের একরত্তি এক শিশুর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রটি মিথ্যা বলে মেয়েটিকে একটি ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে যায়। সে দাবি করেছিল যে মেয়েটির বাবা বাইরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। আর সেখানেই শুরু হয় চরম মারধর।
ক্লাসরুমের ভেতরে ইট, ফুলের টব এবং অ্যালুমিনিয়ামের ডাস্টবিন দিয়ে ওই শিশুর ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালানো হয়। এখানেই শেষ নয়, চুল ধরে তার মাথা বেঞ্চ বা টেবিলের সঙ্গে ঠুকে দেওয়া হয় এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও অভিযুক্ত ছাত্র তাকে নির্মমভাবে লাথি মারতে থাকে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার পুরো দৃশ্য ক্লাসরুমে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে গেছে। ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা গিয়েছে, হামলার প্রায় ৩০ মিনিট পর ওই ছাত্র আবারও সেই রক্তাক্ত জায়গায় ফিরে আসে এবং মেয়েটির শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখে। ভুক্তভোগী শিশুর চাচা ফাজিল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় তাঁদের পুরো পরিবার গভীরভাবে শোকাচ্ছন্ন ও বাকরুদ্ধ।
ঘটনার পরই পরিবারের লোকজন স্কুল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে আলকেমিস্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় পরে তাকে চণ্ডীগড়ের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (PGIMER)-এ স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানে আইসিইউ-তে তার চিকিৎসা চলছে এবং তার অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটজনক। পরিবারের দাবি, जिस ছেলেটি হামলা চালিয়েছিল, সে-ই পরে মেয়েটির বাবাকে সেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল যেখানে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ফ্লোর। এই পৈশাচিক ঘটনা সামনে আসার পর স্কুল প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবার জানিয়েছে, অধ্যক্ষের কক্ষ থেকেই যখন সিসিটিভি মনিটর করা হচ্ছিল, তখন স্কুল কর্তৃপক্ষের কারও চোখে কেন এই তাণ্ডব ধরা পড়ল না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।