‘টিভি-র সামনে বড় বড় কথা, আর ঘরোয়া কোন্দলে খুলছে মাথা!’ ব্যারাকপুরে বিজেপির অন্দরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, লাঠিচার্জ পুলিশের!

বিজেপির অন্দরের কোন্দল এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ব্যারাকপুরের টিটাগড়। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খোদ শাসকদলের ছায়ায় থাকা বিরোধী দলের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন এক বিজেপি কর্মী, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টিটাগড় বিজেপি মণ্ডলের উদ্যোগে একটি বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান শেষ হতে অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় যখন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাইরে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অপর একটি পক্ষ তাঁদের উপর অতর্কিত চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর শুরু করে। টিটাগড় থানার অদূরে মমতা মেডিক্যাল হলের সামনের এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় টিটাগড় থানা পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলার মূল নেপথ্যে রয়েছে সুনন্দ হরি নামে এক ব্যক্তি। তাঁর নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কে এই সুনন্দ এবং কার মদতে তিনি দলবল নিয়ে হামলা চালালেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপি ব্যারাকপুর তিন নম্বর মণ্ডলের আইটি ইনচার্জ করণ শেঠ। প্রথমে তাঁকে ব্যারাকপুর বিএন বোস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাঁকে কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে বিজেপির অন্দরের চরম কোন্দল। ব্যারাকপুরে মন্ত্রী অর্জুন সিংকে ঘিরে ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর বিভিন্ন মন্তব্য এই অন্তর্দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিয়েছে বলে দলের একাংশের জোরালো অভিযোগ। মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ সিংয়ের দাবি, মন্ত্রী অর্জুন সিং অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই সুনন্দ হরির নেতৃত্বে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এই সুনন্দ হরিকে দেখা গিয়েছিল। অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে এই সুনন্দ বিধায়ক নান্টু ঘোষের বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও অভিযোগ। সন্তোষ সিংয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য, “আমরা সরকারে রয়েছি, অথচ এই দুষ্কৃতীরা কিছু নেতার মদতে কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। তবে এই সুনন্দকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।”
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা যুব মোর্চা সভাপতি বিশাল জয়সওয়াল। তিনি দাবি করেছেন, এর সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই, এটি নিছকই একটি স্থানীয় গন্ডগোল। আহত করণ শেঠ বিজেপির আইটি সেলের কেউ নন বলেই তাঁর দাবি। বিশালের সাফ কথা, “যিনি মিডিয়াকে এই সমস্ত তথ্য দিচ্ছেন, তিনি সম্প্রতি দলে এসেছেন এবং অনেক কিছুই জানেন না।” এদিকে, পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে টিটাগর থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মারামারির ঘটনা ঘটলেও এর আসল কারণ এবং নেপথ্যের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষ।