দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বেআইনি বিক্রি? ১১৫ কোটির কেলেঙ্কারিতে তদন্তকারীদের নজরে এবার প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা!

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি থেকে বইমেলার টেন্ডার: ১-১৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গোয়েন্দা স্ক্যানারে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

কলকাতা: দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বেআইনিভাবে বিক্রি থেকে শুরু করে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বইমেলার টেন্ডার বণ্টন—একের পর এক ক্ষেত্রে মারাত্মক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এবার তদন্তের মূল কেন্দ্রে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অঙ্ক ১১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ঘনিষ্ঠদের নিয়ম ভেঙে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে আয়োজিত একাধিক বড় সরকারি অনুষ্ঠান, বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু পছন্দসই ব্যক্তি ও সংস্থাকে কাজের বরাত দিতে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি এড়িয়ে নিয়মবহির্ভূত পথ অবলম্বন করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সরকারি প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের টাকা এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে ঘুরপথে প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। ঠিক কোন কোন সংস্থা কাজ পেয়েছিল এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস কী ছিল, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে মেলােনি সন্তোষজনক উত্তর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। তাঁর সামনে একাধিক আর্থিক লেনদেনের নথি, সরকারি খরচ এবং ব্যাঙ্ক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি; বেশ কিছু বিষয়ে তিনি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

নজরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তদন্তে নেমে বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী, মেয়ে এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে। জমা পড়া অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতির টাকা ঘুরপথে অন্যত্র সরাতে এই অ্যাকাউন্টগুলিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে শীঘ্রই ফরেনসিক অডিটের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।

তদন্তের জাল বিস্তারের ইঙ্গিত তদন্তকারী সংস্থার এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি থেকে দফতরের টেন্ডার প্রক্রিয়া—সবকিছুর পেছনেই একটি সুনির্দিষ্ট চক্র সক্রিয় ছিল।” এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে দফতরের তৎকালীন আধিকারিক, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত কর্মী এবং বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তদন্তকারী দল।