ঘন মেঘে ঘেরা পাহাড়ে সশব্দে ভেঙে পড়ল কপ্টার? ৬ যাত্রীর সন্ধানে উদ্ধারকারী দল, চরম উদ্বেগ!

উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি পথে আবারও বড়সড় কপ্টার দুর্ঘটনার কালো ছায়া! বদ্রীনাথ থেকে ফাটা যাওয়ার পথে ৬ জন আরোহী-সহ একটি বেসরকারি সংস্থার হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, চামোলি জেলার জোশীমঠ সংলগ্ন ‘হাতি পাহাড়’-এর পেছনে ছাই গ্রামের কাছে কপ্টারটি ভেঙে পড়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার দরুণ এখনও পর্যন্ত বিমানটির কোনও ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে দুই কপ্টার, বাধ সাধছে প্রকৃতির দুর্যোগ

জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল ‘ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন’। কপ্টারটিতে পাইলট-সহ মোট ৬ জন সওয়ার ছিলেন। নিখোঁজ কপ্টারটির অবস্থান খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই জোশীমঠ এলাকা থেকে আরও দুটি হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ানো হয়েছে।

তবে উদ্ধারাভিযানের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়া। একটানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঘন মেঘের চাদরে এলাকা ঢেকে থাকায় দৃশ্যমানতা (visibility) প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে আকাশপথে বা স্থলপথে দুর্ঘটনাস্থলের সঠিক সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও ধোঁয়াশা

ঘটনা প্রসঙ্গে জোশীমঠের মহকুমাশাসক জানান, এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কপ্টার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পাহাড়ের যে নির্দিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেদিকে উদ্ধারকারী বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ কিংবা যাত্রীদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা সম্ভব নয় বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

বারবার কেন এই দুর্ঘটনা? কাঠগড়ায় নিরাপত্তা

চারধাম যাত্রায় কপ্টার পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার উঠতে শুরু করেছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই খারাপ আবহাওয়া ও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে রুদ্রপ্রয়াগ ও টিহরিতে দুটি পৃথক হেলিকপ্টারকে জরুরী অবতরণ (Emergency Landing) করাতে বাধ্য হয়েছিলেন পাইলটরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও পরিষেবা চালু রাখা এবং যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।