বিদ্যুৎ থেকে পানীয় জল সব বন্ধ! বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে টোকিওর এই কড়া নির্দেশে হুলুস্থুল!

আগামী দিনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করে দেশের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত কড়া সতর্কতা জারি করল জাপান সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেন ২০৩০ সালের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি বা সামরিক হামলার আশঙ্কায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছিল। আর এবার জাপানের তরফেও নাগরিকদের বাড়িঘর ও দৈনন্দিন জীবনে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও দুই দেশের এই সতর্কবার্তার নেপথ্য কারণ সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও টোকিওর এই নির্দেশ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী গোষি হোসোনো জানিয়েছেন, আগামী ২ নভেম্বর দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি সুনির্দিষ্ট ‘জরুরি আবেদন’ জানানো হবে। দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সাহায্য ছাড়াই যাতে প্রতিটি পরিবার অন্তত তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ নিজেদের প্রয়োজনীয় রসদ দিয়ে স্বনির্ভর থাকতে পারে, সেই প্রস্তুতিই নিতে বলা হচ্ছে। জাপানের ভূগোলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের পুরনো। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক তাণ্ডবের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় জলের সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দোকানপাট পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে। সেই দুঃসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের এই জরুরি নির্দেশিকায় পানীয় জল, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার পানীয় জল এবং তিন থেকে সাত দিনের খাবার মজুত রাখা বাধ্যতামূলক। খাবারের তালিকায় চাল, ক্যানজাতীয় খাবার এবং শুকনো খাবার রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া শৌচাগারের বিকল্প হিসেবে পোর্টেবল টয়লেট বা বিশেষ টয়লেট ব্যাগ ঘরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা জলই নয়, যেকোনো মুহূর্তে বাড়ি ছাড়তে হতে পারে বা আটকে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় একটি আপৎকালীন কিট বা জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সেই ব্যাগের মধ্যে টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, ফার্স্ট এইড বক্স, নিয়মিত খাওয়ার ওষুধ এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত নগদ টাকা রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাপানের এই অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের সতর্কবার্তার তুলনা চললেও, লন্ডনের উদ্বেগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং সামরিক নিরাপত্তা। ব্রিটিশ প্রশাসন আশঙ্কা করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রু রাষ্ট্রগুলির সামরিক ক্ষমতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাইবার আক্রমণ, ড্রোন হামলা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংসের আশঙ্কায় ব্রিটেনও নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার ‘বি রেডি’ কর্মসূচি নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় বিপদের পূর্বাভাস মিলছে।