বন্দে ভারত স্লিপারে চেপে রাতারাতি দিল্লি থেকে বেনারস! উৎসবের মরশুমে ভারতীয় রেলের ঐতিহাসিক উপহার!

উৎসবের মরশুমে রেলযাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও আনন্দদায়ক করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। নর্দার্ন রেলওয়ে সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শনিবার অর্থাৎ আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে দেশের রাজধানী দিল্লি এবং আধ্যাত্মিক শহর বেনারস বা বারাণসীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন’। একইসঙ্গে দীপাবলি ও ছটপুজোর অতিরিক্ত যাত্রী ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন রুট থেকে একাধিক ‘ফেস্টিভাল স্পেশাল’ ট্রেন চালানোরও ঘোষণা করা হয়েছে।

রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিশ্বমানের সুরক্ষায় মুড়ে থাকা এই স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনটি দিল্লি ও বারাণসীর মধ্যকার দীর্ঘ ৭৬০ কিলোমিটারের দূরত্ব খুব কম সময়েই অতিক্রম করবে। ট্রেনটিতে (নম্বর ২৭৪২২/২৭৪২১) মোট ১৬টি অত্যাধুনিক বগি বা কোচ রয়েছে। যার মধ্যে ১টি ফার্স্ট এসি (1st AC), ৪টি সেকেন্ড এসি (2nd AC) এবং ১১টি থার্ড ইকোনমি ও থার্ড এসি (3rd AC) কোচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি যাত্রায় এই ট্রেনটিতে একসঙ্গে মোট ৮২৩ জন যাত্রী আসন সংরক্ষণ করে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রাপথে ট্রেনটি গাজিয়াবাদ জংশন, আলিগড় জংশন, কানপুর সেন্ট্রাল এবং প্রয়াগরাজ জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রাবিরতি নেবে, যা দিল্লি ও বারাণসীর মধ্যকার যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদস্বরূপ হতে চলেছে।

সময়সূচি বা টাইমটেবল অনুযায়ী, ২৭৪২২ নম্বর ট্রেনটি প্রতিদিন রাতে দিল্লি থেকে বারাণসীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এটি রাত ৯টা বেজে ৪০ মিনিটে দিল্লি ছেড়ে গাজিয়াবাদ (রাত ১০:১৩), আলিগড় (রাত ১১:২০) পার হয়ে গভীর রাতে অর্থাৎ রাত ২টা বেজে ৪৫ মিনিটে কানপুরে পৌঁছবে। এরপর ভোর ৫টা বেজে ৫ মিনিটে প্রয়াগরাজ ছুঁয়ে পরদিন সকাল ৬টা বেজে ১০ মিনিটে বারাণসী স্টেশনে গিয়ে থামবে। অন্যদিকে, ফিরতি পথে ২৭৪২১ নম্বর ট্রেনটি বারাণসী থেকে রাতের দিকে অর্থাৎ ৮টা বেজে ৫০ মিনিটে দিল্লির উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। এরপর প্রয়াগরাজ (রাত ১০:৩৫), কানপুর (রাত ১২:৪০) হয়ে ভোর ৩টা বেজে ৫৫ মিনিটে আলিগড়ে পৌঁছবে। এরপর গাজিয়াবাদ হয়ে ট্রেনটি সকাল ৬টা বেজে ১০ মিনিটে নির্দিষ্ট গন্তব্য দিল্লিতে এসে পৌঁছবে।

এই নতুন স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য গতি এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব। ট্রেনটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম। তবে অতিরিক্ত গতিতে ছুটলেও অত্যাধুনিক সাসপেনশন সিস্টেমের কারণে যাত্রাপথে কোনো ধরনের ঝাঁকুনি বা দুলুনি যাত্রীরা টের পাবেন না। কেবিনের ভেতরে বাইরের কোনো বিরক্তিকর শব্দ বা কোলাহল প্রবেশ করবে না। এছাড়াও ট্রেনটিতে থাকছে সেন্সর যুক্ত টাচ-ফ্রি বায়ো টয়লেট, উন্নত মানের মার্জিত আলো, প্রতিটি বার্থে মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট, সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য সর্বাধুনিক ‘কবচ’ (Kavach) সুরক্ষা সিস্টেম, সার্বক্ষণিক নজরদারি ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। এই সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হবে অত্যন্ত সুরক্ষিত, বিলাসবহুল ও আরামদায়ক।