এক ক্লিকেই ঘুরে যাবে ভাগ্য! রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো পরিবারগুলোর জন্য সোজা সরকারি চাকরি?

গত ২৫ বছর ধরে রাজ্যের বুকে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারবর্গের জন্য এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে নিহতের পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার এক মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ে গিয়েছে।
বিগত ২৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিধানসভা, লোকসভা কিংবা ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতেই নবান্নের এই পদক্ষেপ। ২০২১ সালের উত্তপ্ত বিধানসভা ভোট এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় হিংসায় নিহতদের স্বজনরা এই ঐতিহাসিক সরকারি প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবেন। শুধু এই দুই সাম্প্রতিক নির্বাচনই নয়, গত আড়াই দশকে পঞ্চায়েত নির্বাচনসহ যেকোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষে স্বজনহারাদের এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে।
খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে চলেছে। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট মাধ্যমে আবেদন জানাতে অনুরোধ করা হবে। আবেদনকারীদের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং মৃত্যুর সঠিক প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি নথিভুক্ত করে জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসন নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠালেই সংশ্লিষ্ট পরিবারের এক সদস্যের সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যের আইন দপ্তর থেকেও এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত পেয়ে গেছে, যা রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত গড়তে চলেছে।