“আলোর উৎসবে বারুদ কেন?” দিল্লির বিষাক্ত বাতাস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন!

দূষণমুক্ত দীপাবলি পালনের প্রচারে এবার ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে বিরাটের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাজে লাগানোর কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। বিশেষ করে দিল্লিতে বাজি ছাড়া দীপাবলি পালনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ক্রিকেট আইকনদের দিয়ে প্রচার চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিচারপতির বেঞ্চ।
আতশবাজি থেকে তৈরি হওয়া মারাত্মক বায়ুদূষণ এবং বাজি ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। বিচারপতি ভারালে জানান, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ বা সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে। বিচারপতি সুন্দরেশ প্রস্তাব দেন, বিরাট কোহলি বা অন্য পরিচিত ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহার না করার বার্তা দেওয়া উচিত।
প্রতি বছর দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব, যেখানে অতীতে আতশবাজির কোনো স্থান ছিল না। পরবর্তীতে বারুদের প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে বাজির ব্যবহার শুরু হয়। আদালতের অ্যামিকাস কিউরি অপরাজিতা সিং জানান, বাজি থেকে নির্গত PM2.5 কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে শিশুদের ও অধূমপায়ীদের ফুসফুসের চরম ক্ষতি করছে। এমনকি বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ‘গ্রিন ক্র্যাকার’-ও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয়।
অন্যদিতে, বাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা নিয়ে আবেদনকারী ও বাজি প্রস্তুতকারকদের আইনজীবীদের মধ্যে জোর তর্কবিতর্ক হয়। দিল্লির ৩৯টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি চালু থাকায় প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।