উৎসবে থালায় বিষ? দিল্লির বাজারে হানা দিয়ে ৯৪৮ লিটার ভেজাল ঘি জব্দ! মুখ্যমন্ত্রী নিলেন কড়া পদক্ষেপ

উৎসবের মরশুমে খাদ্যে ভেজাল রুখতে এবং আমজনতার স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার কড়া নির্দেশের পর রাজধানীর একাধিক বাজারে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিশাল পরিমাণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ। সরকারের স্পষ্ট বার্তা—ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এই ভেজাল বিরোধী অভিযান কেবল পুজো-উৎসবের মরশুমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বছরজুড়ে লাগাতার চালানো হবে।
৩টি প্রধান পয়েন্ট
বিশাল অভিযান ও উদ্ধার: উৎসবের মুখে দিল্লির ৩টি বড় খাদ্য বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৪৮.৯ লিটার ভেজাল ও নিম্নমানের ঘি জব্দ করেছেন আধিকারিকেরা।
প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ: খাদ্য সুরক্ষা বিভাগকে ডিজিটাল ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার পাশাপাশি কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর বড় ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
বছরের ৩৬৫ দিনই নজরদারি: ভেজাল কারবারিদের গোড়াসুদ্ধ উপড়ে ফেলতে এবার বছরব্যাপী লাগাতার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর তিন বাজারে হানা
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশিকা পাওয়ার পরপরই বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ‘ভোগাল মার্কেট’, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ‘নজফগড় মার্কেট’ এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির ‘শিব বিহার’-এ একযোগে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিশেষ দল। সেখান থেকেই বাজেয়াপ্ত হয় বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক ও ভুয়া ঘি। বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা এই ঘিয়ের নমুনা ইতিমধ্যেই ল্যাব পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগকে অত্যাধুনিক করার নির্দেশ
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, নাগরিকদের জন্য পুষ্টিকর ও গুণমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের অন্যতম মূল অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য পূরণে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পুরো পরিকাঠামোয় বদল আনা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে খুব দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং অনিয়ম দেখলেই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নজরদারি জোরদার করতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।
নাগরিকদের জন্য হেল্পলাইন চালু
উৎসবের মরশুমে ভেজাল খাবারের হাত থেকে বাঁচতে এবং বাজারে কোনও সন্দেহজনক বা নিম্নমানের খাবার বিক্রি হতে দেখলে সাধারণ মানুষকে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহার করার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সজাগ দৃষ্টি ও প্রশাসনিক কঠোরতাই ভেজাল কারবার বন্ধ করার প্রধান অস্ত্র হবে বলে মনে করছে দিল্লি সরকার।