বিশ্বকাপ জয়ের পরই ধোনির গোপন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ! স্মৃতি মান্ধানাকে ঠিক কী লিখেছিলেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’?

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল যখন ঐতিহাসিক ওডিআই বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন গোটা দেশ আনন্দে মেতে উঠেছিল। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর কিংবদন্তি প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মহিলা বাহিনীকে। তবে তাঁর অভিনন্দন জানানোর পদ্ধতিটি ছিল একেবারেই আলাদা এবং কিছুটা চমকপ্রদ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্মৃতি মান্ধানা নিজেই ফাঁস করেছেন যে, বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনি সরাসরি তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠিয়ে পুরো দলকে অভিনন্দন জানাতে বলেছিলেন।

ধোনির সেই গোপন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার রহস্য

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ধোনি কেন সরাসরি দলের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করে কেবল স্মৃতি মান্ধানাকেই মেসেজ করেছিলেন?

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হর্ষ ভোগলে কৌতূহল প্রকাশ করে স্মৃতিকে হাসতে হাসতে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি ওনার নম্বর সেভ করে রেখেছিলেন?” উত্তরে স্মৃতি হাসিমুখে জানান, “আমার কাছে ওনার নম্বর ছিল।”

এরপর ধোনির বার্তা পাঠানোর আসল কারণটিও স্পষ্ট হয়ে যায়। ধোনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, ভারতীয় মহিলা দলের মধ্যে একমাত্র স্মৃতি মান্ধানার নম্বরই তাঁর ফোনে সেভ করা ছিল। ধোনির বক্তব্য ছিল, “দলের আর অন্য কারও নম্বর আমার জানা ছিল না। তবে আমি চেয়েছিলাম আমার এই বার্তা যেন দলের সবার কাছে পৌঁছে যায়। এর আগে আমরা সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছিলাম, সেই সূত্রে মনে হলো স্মৃতিকে একটা মেসেজ করি। আমি লিখেছিলাম— ‘দয়া করে দলের সকল সদস্যকে আমার অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাবেন।'” এমনিতেই ধোনি সচরাচর ফোন খুব একটা ব্যবহার করেন না, তাই খোদ ‘মাহি’-র থেকে এমন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাওয়াটা স্মৃতির কাছে ছিল অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত।

ঐতিহাসিক মহিলা বিশ্বকাপ জয়: এক নজরে

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর নভি মুম্বাইতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে পরাজিত করে ভারত তাদের প্রথম মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল।

  • ফাইনাল ম্যাচ: প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ওভারে ২৯৮ রান তোলে, যার মধ্যে শেফালি ভার্মার দুর্দান্ত ৮৭ এবং দীপ্তি শর্মার ৫৮ রান ছিল উল্লেখযোগ্য। জবাবে লরা ভলভার্টের শতরান সত্ত্বেও দীপ্তি শর্মার বিধ্বংসী ৫ উইকেটের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।

  • সেমিফাইনালের রূপকথা: ফাইনালের ঠিক কয়েকদিন আগেই সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক অভাবনীয় রান তাড়া করে ভারত। ৩৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জেমিমা রড্রিগেজের অপরাজিত ১২৭ এবং হারমানপ্রীত কৌরের ৮৯ রানের সুবাদে ভারত ৩৪১ রান তুলে ৫ উইকেটে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেয়। মহিলাদের ওডিআই ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই ছিল তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া।

নারী ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দিল এই জয়

মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে এই বিশ্বকাপ জয় নিছকই একটি ট্রফি অর্জনের চেয়ে অনেক বড় কিছু ছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের পুরো ভবিষ্যৎটাই বদলে দিয়েছে।

ধোনি সেসময় মন্তব্য করেছিলেন, “এই জয় একটি বিশাল ব্যাপার। এটি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতির ধারা চিরতরে বদলে দেবে। শুধু দেশের হয়ে একটি বড় ট্রফি জেতার কারণেই নয়, বরং এই মেয়েরা আগামী প্রজন্মের নারীদের জন্য একটি পথ তৈরি করে দিয়ে গেল যে, তারা কীভাবে ক্রিকেটকে দেখবে এবং পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে। আমি মনে করি, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি সোনালী দিন।”