AIIMS-বাড়ল ১ থেকে ২৩! দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কী বললেন জেপি নাড্ডা?

নয়ডা ফিল্ম সিটিতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্ডিয়া টুডে’র ‘HealthWealth Summit 2026’-এর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষ সুস্থ ও সবল থাকলেই তবেই একটি ‘উন্নত ভারত’ গড়া সম্ভব। এদিনের সম্মেলনে আয়ুষ্মান ভারত থেকে শুরু করে চিকিৎসা শিক্ষার অভাবনীয় উন্নতির খতিয়ান দেন তিনি।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির ও ডিজিটালাইজেশনে বিপ্লব
দেশের প্রতিটি কোণায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র) যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি করেন নাড্ডা।
স্ক্রিনিং: ৩০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৪৪ কোটি মানুষকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জন্য স্ক্রিনিং করা হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষ প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছেন।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য: ‘U-Win’ পোর্টালের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। এর জেরে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৭০-৭১ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
চিকিৎসা শিক্ষায় ঐতিহাসিক অগ্রগতি: এমসের সংখ্যা বাড়ল ২৩ গুণ
দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে সরকারের বড় পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান:
দেশে এমস (AIIMS)-এর সংখ্যা মাত্র ১টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৩৮৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১,০৬৩টিতে পৌঁছেছে।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে চিকিৎসা পড়ার আসন সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ানো হচ্ছে। দেশের মানুষ যাতে দেশের ভেতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা পায়, তার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে কেন্দ্র।
বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য সুরক্ষা: ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও প্রবীণদের বিমা
গরীব মানুষের জীবনরেখায় পরিণত হওয়া ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নাড্ডা বলেন, আজ দেশের ৬১ কোটি মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতাভুক্ত।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সমস্ত প্রবীণ নাগরিক তাঁদের আর্থিক অবস্থা বা জাতি নির্বিশেষে আমৃত্যু ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাচ্ছেন।
বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এর রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, আজ ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগী রোগ নির্ণয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করতে পারছেন।
সস্তা ওষুধ ও তরুণদের প্রতি জেপি নাড্ডার বিশেষ উপদেশ
সাধারণ মানুষের চিকিৎসার পকেটের খরচ (Out-of-pocket expenditure) একসময় ৬৩ শতাংশে থাকলেও, তা এখন কমে প্রায় ৪৩-৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। জন ঔষধি কেন্দ্র এবং ‘অমৃত’ ফার্মেসিগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে জীবনদায়ী ওষুধ ও ইমপ্লান্ট পেয়ে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করছেন।
তবে বক্তব্যের একেবারে শেষে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কঠোর উপদেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হেসে বলেন:
“সমস্যা তৈরি না করার মধ্যেই আসল সমাধান নিহিত! নিজের শরীরকে জানুন, এর ওপর অত্যাচার কোরো না। তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনধারা গ্রহণ করতে হবে, যাতে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনই না পড়ে।”
উপসংহার:
স্বাস্থ্যখাতে কেন্দ্রের মেগা বিনিয়োগ, পরিকাঠামোর ব্যাপক প্রসার এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের এই বার্তা আগামী দিনে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।