জাতীয় মেলার স্বীকৃতি পাচ্ছে গঙ্গাসাগর? কোটি কোটি পুণ্যার্থীর জন্য পকেট ঢেলে রেকর্ড বরাদ্দ শুভেন্দু সরকারের!

‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’— হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে এবার বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। গঙ্গাসাগরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় মেলা’-র (National Mela) স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দরবারে নতুন করে জোর তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্য পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চলতি বছরেই মিলতে পারে ঐতিহাসিক এই জাতীয় মেলার স্বীকৃতি।
রেল যোগাযোগ ও নজিরবিহীন ভিড় সামলানোর ব্লু-প্রিন্ট
গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীদের আসা-যাওয়া আরও সুগম ও আরামদায়ক করতে Sagar Island-কে সরাসরি রেল যোগাযোগের আওতায় আনার আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একদিকে রেল যোগাযোগের দাবি, আর অন্যদিকে প্রতি বছর মেলায় কোটি কোটি পুণ্যার্থীর আগমন—সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না নবান্ন। বিশেষ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের জোগান বজায় রাখা রাজ্য প্রশাসনের কাছে প্রতিবারই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দফতরের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। গত বছর যেখানে এই খাতে ১২৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল, এবার সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ করছে নবান্ন।
১২ থেকে বেড়ে ১৮ লক্ষ বর্গফুট! নজিরবিহীন পরিধি বৃদ্ধি
শুধু আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধিই নয়, সাগরে আগত ভিড় সামাল দিতে মেলাপ্রাঙ্গণের আকারও নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
আগের পরিধি: এতদিন পর্যন্ত গঙ্গাসাগরের মেলাপ্রাঙ্গণ প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে আয়োজিত হতো।
নতুন পরিধি: এবার মেলাপ্রাঙ্গণ আরও ৬ লক্ষ বর্গফুট বাড়িয়ে একধাক্কায় ১৮ লক্ষ বর্গফুট করা হচ্ছে।
মেলাপ্রাঙ্গণের পরিধি এতটা বাড়ায় পুণ্যার্থীদের যাতায়াত এবং ধাক্কাধাক্কি ছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটাই সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।