অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় ধাক্কা! নভেম্বরেই বন্ধ হতে পারে ৩০০০ টাকার ভাতা, আজই সেরে ফেলুন এই ৩ কাজ!

রাজ্যবাসীর জন্য বড়সড় আপডেট। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চালু করেছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। গত জুন মাস থেকেই এই জনদরদী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের পঞ্চম কিস্তির টাকাও সফলভাবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। তবে আনন্দের খবরের মাঝেই সামনে এসেছে এক সতর্কবার্তা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তি বিতরণের আগে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যার ফলে অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট থেকে এবার টাকা কাটা যেতে পারে বা তাঁদের নাম বাদ পড়তে পারে। অতীতে নিয়ম মেনে টাকা পেয়ে থাকলেও, কিছু নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে আগামী মাসে বহু মহিলা এই আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই এই বিপদের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিশ্চিতভাবে টাকা পেতে অবিলম্বে ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আছে কিনা তা দ্রুত খতিয়ে দেখুন। যেসব উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এখনও কেওয়াইসি আপডেট করা নেই, তাঁদের টাকা আটকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আপনার আধার কার্ড (Aadhaar Card) এবং মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে লিঙ্ক করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। বর্তমান নিয়মানুযায়ী সরকারের সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে (DBT) পাঠানো হয়। তাই আধার সিডিং বা ডিবিটি এনেবল করা না থাকলে টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে না।

তৃতীয়ত, রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও মহিলা একই সঙ্গে একাধিক সরকারি ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। বিশেষ করে, যারা এতদিন ধরে ‘বিধবা ভাতা’ এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর টাকা একসঙ্গে নিয়ে আসছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মের কোপ পড়তে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে এই দুটি ভাতা একসঙ্গে নেওয়া যাবে না। ফলস্বরূপ, নভেম্বর মাস থেকে এই দ্বৈত সুবিধাভোগীদের একটি ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এমতাবস্থায়, সমস্ত জটিলতা এড়াতে এবং নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি মাসের ৩০০০ টাকা হাতে পেতে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একটু সচেতনতাই আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আসা নিশ্চিত করতে পারে।