১০ লাখের নিচে গাড়ি কেনার প্ল্যান? কেনার আগে পকেটের টান বাঁচাবে কোন ৩টি হ্যাচব্যাক, দেখে নিন!

নতুন গাড়ি কেনার বাজেট তৈরি করার সময়ে অধিকাংশ গ্রাহকই কেবল অন-রোড প্রাইস আর প্রতি মাসের ইএমআই (EMI)-এর হিসেব কষেন। কিন্তু গাড়িটি গ্যারেজে আসার পর আসল খরচের শুরু— জ্বালানি, নিয়মিত সার্ভিসিং, টায়ার বদল, ব্যাটারি পরিবর্তন, বার্ষিক ইনস্যুরেন্স এবং হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত মেরামতির বড় খরচ। তাই কেনার সময় কম দাম দেখার পাশাপাশি কোন মডেলের মেইনটেন্যান্স খরচ কতটা সাশ্রয়ী, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনি যদি ১০ লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও কম খরচের গাড়ি খুঁজে থাকেন, তবে তিনটি মডেল আপনার পছন্দের শীর্ষে থাকা উচিত।
প্রথমত, মারুতি সুজুকি অল্টো কে১০ (Maruti Suzuki Alto K10)। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যাতায়াতের জন্য এবং পার্কিংয়ের সুবিধার দিক থেকে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৩.৭০ লাখ টাকা থেকে। এতে ১.০ লিটার পেট্রল ইঞ্জিনের পাশাপাশি সিএনজি (CNG) অপশনও রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ৬টি এয়ারব্যাগ ও এবিএস-এর মতো ফিচার রয়েছে। মারুতির বিশ্বস্ত নেটওয়ার্কের কারণে এর সার্ভিসিং ও স্পেয়ার পার্টসের খরচ অত্যন্ত কম।
দ্বিতীয়ত, মারুতি সুজুকি ওয়াগনআর (Maruti Suzuki WagonR)। পরিবারের ব্যবহারের জন্য এবং কেবিনে বাড়তি জায়গার জন্য এটি অন্যতম সেরা ‘টল-বয়’ ডিজাইন হ্যাচব্যাক। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু ৪.৯৯ লাখ টাকা থেকে। পেট্রল ও সিএনজি দুই ভ্যারিয়েন্টেই মিলবে দুর্দান্ত মাইলেজ। দেশজুড়ে মারুতির বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা নেই বললেই চলে।
তৃতীয়ত, টাটা টিয়াগো (Tata Tiago)। দুর্দান্ত বিল্ড কোয়ালিটি ও আধুনিক ফিচারের জন্য পরিচিত এই গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম শুরু ৪.৭৭ লাখ টাকা থেকে। নিরাপত্তার দিক থেকে এটি মারুতির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। তবে শক্তিশালী বডি ও স্পেয়ার পার্টসের স্থায়িত্ব সত্ত্বেও ব্যাটারি বা ব্রেক প্যাড বদলানোর সময়ে সঠিক সার্ভিস এস্টিমেট নেওয়া জরুরি।
গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেবল বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর না করে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের সার্ভিসিং চার্জ, টায়ারের স্থায়িত্ব ও ইনস্যুরেন্সের সঠিক হিসাব জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।