নেপালে ফের বড় দুর্যোগের শঙ্কা! আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধ জারি প্রশাসনের

মাস দুয়েক আগেই প্রকৃতির তাণ্ডবে ভয়াবহ মৃত্যুমিছিল দেখেছিল নেপাল। সেই ট্রমা কাটতে না কাটতেই ফের দেশটিতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে মিলছে লাগাতার সতর্কবার্তা। আর এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের অভিবাসন বিভাগ। পূর্বের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মর্মান্তিক পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ এবার প্রথম থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।আসন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হিমালয় এবং দেশের অন্যান্য উচ্চ পার্বত্য এলাকার সংরক্ষিত অঞ্চলে সমস্ত ধরনের ট্রেকিং পারমিট বা পর্যটক প্রবেশের অনুমতি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট তিন দিন পর্যটক ও স্থানীয় অভিযাত্রীদের যেকোনো ধরনের বিপজ্জনক পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।সাধারণত পাহাড়ি পথে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভারী বর্ষণের ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই বলাই বাহুল্য যে এই বাড়তি সতর্কতা অপরিহার্য ছিল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের পাশাপাশি নেপাতালেও মারাত্মক আবহাওয়া পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশটির বিভিন্নপ্রান্তে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। কোথাও নাগাড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, কোথাও আবার প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, আর উচুঁ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে শুরু হয়েছে তুষারপাত। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তুষারধসের ঝুঁকিও। বিশেষ করে যাঁরা হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলগুলিতে ট্রেকিংয়ে যান, তাঁদের এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রতিকূল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। নেপাল আবহাওয়া দফতর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই ওই নির্দিষ্ট দিনগুলির জন্য ট্রেকিংয়ের অনুমতি সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁদেরও অবিলম্বে নিজেদের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা উচিত। যতদিন না সামগ্রিক আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিরাপদ হচ্ছে, ততদিন যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।এদিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝবরাবর ইতিমধ্যেই প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের অনুমানকে সত্যি করে রাতের দিকে শুরু হয় এই ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া। স্থলভাগে প্রবেশের সময় এই ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার, যা প্রত্যাশিত গতির চেয়েও অনেকটাই বেশি। এই ঘূর্ণিবাত্যের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে প্রবল বৃষ্টিপাত। উপকূলবর্তী এলাকায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সমুদ্রের রূপ অত্যন্ত উত্তাল। বিশালাকায় ঢেউয়ের আঘায় উপকূলের একাধিক বিচ ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ল্যান্ডফলের তাণ্ডব চললেও, আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করেছে এই ঘূর্ণিবাত্ৰ। ধীরে ধীরে ভয়ের আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসার এবং ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব কষে প্রলেপ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে পাহাড়ি ও উপকূলীয় দুই অঞ্চলেই সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে।