“ওর যা হয়েছে ভালোই হয়েছে”-গাইঘাটায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারে কী প্রতিক্রিয়া দিলেন হতভাগা বাবা?

লক্ষ্মীপুজোর সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। গ্রেফতারির ঠিক দু’দিনের মাথায় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে খতম হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। এই আকস্মিক ও নাটকীয় পরিণতিতে একদিকে যেমন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে অভিযুক্তের মৃত্যুতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দেখছে মৃতার পরিবার।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই একটি জলসা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। রাত বাড়লেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ওই কিশোরীর কাছে একটি ফোন আসে এবং সে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যায়।
এরপর সারারাত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরদিন সকালে স্থানীয় এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছন থেকে, শৌচাগারের কাছ থেকে ওই ছাত্রীর নগ্ন ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, সুপরিকল্পিতভাবে কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই পুলিশ তদন্তে নেমে মৃতার এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে।
পুনর্নির্মাণের রাতে কীভাবে এনকাউন্টার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছিল প্রহ্লাদ। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা রিকনস্ট্রাকশনের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় তদন্তকারী দল। পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার পথেই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি।
পুলিশের দাবি, হঠাৎই কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে প্রহ্লাদ পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালাতে শুরু করে। হামলায় এক পুলিশকর্মী আহত হন এবং প্রাণ বাঁচাতে অন্য এক কর্মী পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা চার রাউন্ড গুলি চালায়। যার মধ্যে একটি গুলি গিয়ে লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রহ্লাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
“ওর যা হয়েছে ভালোই হয়েছে”: মৃতার বাবা
অভিযুক্তের এই আকস্মিক মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মৃতার বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে তো আর আমি ফিরে পাবো না। তবে সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভালো কাজ করেছে। ও পালানোর চেষ্টা করেছিল, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। পুলিশের পালটা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে আমরা শুনেছি। ওর যা হয়েছে ভালোই হয়েছে, যাতে এটা দেখে অন্যরা শিক্ষা নেয়।”
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
গাইঘাটার এই এনকাউন্টার কাণ্ড ও এর আগে বারুইপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি মন্তব্য করেছেন, “ধর্ষকদের মনে ভয় ধরাতে হবে। একদিনে সবটা হয়তো সম্ভব নয়, তবে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি বদলাবে। বারুইপুরে হয়েছে, এখানেও হলো। এইভাবে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় ঢোকাতে হবে।” মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে বারুইপুরকাণ্ডের পর গাইঘাটায় এমন এনকাউন্টার রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন নীতি নিয়ে নতুন করে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।