মৃগীরোগের ভুয়ো অজুহাত! কারারক্ষীদের পিটিয়ে জেল থেকে উধাও ১৭ বন্দি, তামিলনাড়ুতে চরম চাঞ্চল্য!

তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কামপট্টি সাব-জেলে ঘটে গেল এক চরম নাটকীয় ও হাড়হিম করা ঘটনা। সহ-বন্দির অসুস্থতার নাটক করে কারারক্ষীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে জেলের প্রধান ফটক দিয়ে চম্পট দিল ১৭ জন বন্দি। সোমবার রাতের এই ঘটনা সামনে আসতেই পুরো তামিলনাড়ু জুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পর পরই রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইতিমধ্যেই ৪ জন পলাতক বন্দিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও কারাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ১৭ জন বন্দিই মাদুরাইয়ের বাসিন্দা এবং তাঁদের একই সেলে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাতে সেলের ভেতর এক বন্দি মৃগীরোগের খিঁচুনির নাটক শুরু করে। খবর পেয়ে সরল বিশ্বাসে কারারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সেলের দরজা খোলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওত পেতে থাকা বন্দিরা রক্ষীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। থাঙ্গাপান্ডি নামে এক কারারক্ষীর মাথায় গুরুতর আঘাত করে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়। আরও দুই কর্মী জখম হন। এরপর মূল ফটক দিয়ে নিমেষের মধ্যে চম্পট দেয় পুরো দলটি।

জখম থাঙ্গাপান্ডিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জি ভিলাক্কুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তামিলনাড়ু জুড়ে ১৭টি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। কেরল সীমান্তসহ সমস্ত নাকা পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কুমিলি, কম্বম মেট্টু ও বোদিমেট্টুর মতো সংবেদনশীল রুটগুলিতে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি।

উল্লেখ্য, ৫০০-র বেশি বন্দি থাকা এই হাই-সিকিউরিটি জেলে এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভেলোরের বিশেষ শিবির থেকে ৪৩ জন এলটিটিই সদস্য সুড়ঙ্গ কেটে পালানোর পর, এটিকে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুর সবচেয়ে বড় ‘জেলব্রেক’ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।