হোটেল মালিক, ছেলে-বউ থেকে চালক: ৫ জনকে পরপর গুলি! বিলাস ইনে কেন এই রক্তগঙ্গা?

আসামের রাজধানী গুয়াহাটির এক নামী হোটেলে ঘটে গেল শিউরে ওঠার মতো এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা। সোমবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ শহরের ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ দুষ্কৃতীর তাণ্ডবে থমথমে পুরো এলাকা। বচসা থেকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি! ঘটনাস্থলেই রক্তে ভেসে যান ৬ জন। এদের মধ্যে ৫ জনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, আর ১ জন গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালিয়ে আপাতত স্থিতিশীল। ঘটনার পর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ওই হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালী, তাঁর ভাই ভূদেব ভরালী, ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ এবং পুত্রবধূ রিনিকি কাশ্যপ। একই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারের গাড়িচালক নারায়ণ দাসও। পুরো ঘটনার একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী হলেন হোটেলের কেয়ারটেকার সত্যেন্দ্র পাঠক। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (GMCH) নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আতঙ্ক কাটেনি।
গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানান, রাতভর জেরার পর প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে যে, হোটেল লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ হোটেলটির লিজ নিয়েছিলেন। এর পর থেকেই মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পত্তি ও লেনদেন নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশি অভিযানে ঘটনার পরেই উদ্ধার হয়েছে একটি ৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল, যা দিয়ে গুলি চালানো হয়েছিল।
ঘটনায় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পদ্ধতিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অসম কংগ্রেস আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচার ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।