দুর্গাপুজোয় একটু বেশি খেয়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলেছেন? কালীপুজোর আগেই ঝটপট মেদ ঝরানোর জাদুকরি উপায়!

দুর্গাপুজোর কদিন অনিয়ম করে খাওয়া-দাওয়া এবং জমজমাট আড্ডার পর কি ওজন একটু বেড়ে গিয়েছে? জামাকাপড় পরতে গিয়ে কি সামান্য হলেও অস্বস্তি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরশুমে একটু-আধটু ওজন বাড়া স্বাভাবিক। তবে সময় থাকতেই এই অল্প ফ্যাট বা ভুঁড়ি কমিয়ে ফেলা কিন্তু খুব একটা কঠিন নয়। একসঙ্গে অনেকখানি ওজন জমানোর পর তা কমানোর চেয়ে এখনই সচেতন হওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।
সামনেই আসছে কালীপুজো ও দীপাবলি। তার আগে জীবনযাত্রা এবং রোজকার খাওয়াদাওয়ায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই আপনি ফিরতে পারেন আপনার ছিপছিপে ফিগারে। মনে রাখবেন, রাতারাতি জাদুকরে ভুঁড়ি উধাও করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটু ধৈর্য এবং নিয়মিত অভ্যাস। চলুন জেনে নেওয়া যাক দ্রুত মেদ ঝরানোর সহজ কয়েকটি ঘরোয়া উপায়:
১. ক্যালোরি ডেফিসিট (Calorie Deficit) মেনে চলুন
ওজন কমানোর সবচেয়ে মৌলিক এবং কার্যকরী নিয়ম হলো ক্যালোরি ডেফিসিট বজায় রাখা। অর্থাৎ, আপনার শরীর প্রতিদিন যতটা ক্যালোরি খরচ করছে, খাবার থেকে তার চেয়ে কিছুটা কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে না খেয়ে থাকতে হবে। না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ খুব কম খাওয়ার অভ্যাস শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই পুষ্টিবিদরা পরিমিত পরিমাণে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
২. পাতে রাখুন ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার
পেটের জেদি মেদ কমানোর লড়াইয়ে খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শাকসব্জি, নানা রকমের ফল, ডাল এবং গোটা শস্যদানা বা ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, ফলে বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি এটি হজমশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে।
৩. রান্নায় তেলের পরিমাণ কমান
বাইরের ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড কিংবা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। তার বদলে বাড়িতে তৈরি সাধারণ ও পুষ্টিকর খাবার খান। রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে সবজি, ডাল ও প্রোটিনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখুন। এতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি প্রবেশ করা রোধ করা সহজ হয়।
৪. পরিমাণের দিকে কড়া নজর দিন
ভাত, ঘি বা ময়দার খাবার একেবারে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আপনি ঠিক কতটা খাচ্ছেন, সেই পরিমাণের ওপর নজর রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। মিষ্টি, বিস্কুট, চিপস এবং কোল্ড ড্রিংকসের মতো প্যাকেটজাত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লুকানো চিনি, নুন এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে যা ওজন বৃদ্ধির মূল কারণ।
৫. হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা বাড়ান
খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা এবং নিজের শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম করা বাঞ্ছনীয়। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক শান্তিও ওজন নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, শরীরের নির্দিষ্ট কোনো এক জায়গার ফ্যাট আলাদা করে কমানো যায় না। সুষম ডায়েট এবং নিয়মিত অভ্যাসের হাত ধরেই ধীরে ধীরে সামগ্রিক ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।