“ঘরে ঢোকার ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিপত্তি!”-CCTV ফুটেজ সামনে আসতেই তুলকালাম

বিয়ের মাত্র চার মাস পার হতে না হতেই মর্মান্তিক এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে। পিসির বাড়ি যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এক সদ্য বিবাহিত দম্পতি। কিন্তু আত্মীয়ের বাড়ি না গিয়ে তাঁরা ওঠেন একটি হোটেলে। আর সেই হোটেলেই ঘরের দরজায় পৌঁছানোর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২৮ বছর বয়সি এক নববধূ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

পুরো ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসলেও, মেয়ের মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ মৃতার পরিবার। জামাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

মৃতার নাম মুসকান সিমোলিয়া (২৮)। প্রায় চার মাস আগে, গত ২৯ জুন মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বাসিন্দা তথা পেশায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার নীলেশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর সকালে ঝাঁসির ‘ঋষভ হোটেল’ থেকে চেকআউট করার কথা ছিল তাঁদের। হোটেলের ২১২ নম্বর ঘরে ছিলেন দম্পতি। সামনে আসা ৪৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হোটেলের এক কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন নীলেশ ও মুসকান। কর্মীটি এবং নীলেশ ঘরের ভেতরে ঢোকার ঠিক আগেই দরজার কাছে পৌঁছতেই আচমকা পিছন দিকে লুটিয়ে পড়েন মুসকান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তুলে ঘরের ভিতরে নিয়ে যান স্বামী নীলেশ। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ফুটেজে মুসকানকে আচমকা পড়ে যেতে দেখা গেলেও, ঠিক কী কারণে তিনি পড়ে গেলেন তা স্পষ্ট নয়। মাথায় আঘাত লাগার ফলেই মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিসির বাড়ি বাদ দিয়ে হোটেলে কেন?

মৃতার বাবা রামজি লাল আহিরওয়ালের বিস্ফোরক অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর রাতে ঝাঁসিতে এসেছিলেন নীলেশ। পরদিন মুসকানকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে পিসির বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পরে তাঁরা জানতে পারেন, পিসির বাড়ি নয়, বরং ২৩ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত একটি হোটেলে বুকিং করে সেখানে ছিলেন তাঁরা।

পরিবারের দাবি, মুসকান আগামী ২৮ অক্টোবর রেলওয়ের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মাঝেই স্বামীর সঙ্গে ঝাঁসির হোটেলে গিয়ে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল।

আগেও বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ!

মৃতার বাবার আরও দাবি, বিয়ের পর তাঁরা জানতে পেরেছেন নীলেশের এটি প্রথম বিয়ে ছিল না। এর আগেও তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং প্রথম স্ত্রী মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে থাকেন। অথচ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিয়ের আগে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছিল। এই লুকোচুরিকে কেন্দ্র করে মুসকানকে নানাভাবে মানসিক কটাক্ষ করা হতো বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

কী জানাল পুলিশ?

ঝাঁসির সিটি পুলিশ সুপার প্রীতি সিং জানিয়েছেন, স্বামী নীলেশের বক্তব্য অনুযায়ী—হোটেল থেকে চেকআউট করার সময় ঘরের দরজার সামনেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান মুসকান। এরপর হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মৃতার পরিবারের করা সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী নীলেশকে আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে এবং তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।