৩ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে আটকে ১৪ ইসিএল কর্মী! পাণ্ডবেশ্বরের খনিতে বিরাট বিপত্তি!

সোম সন্ধ্যার এক মর্মান্তিক যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়সড় বিপদের মুখে পড়লেন ১৪ জন খনি শ্রমিক। খনিগর্ভে নামার ও ওঠার সময় মাঝপথেই ডুলি আটকে যাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে অন্ধকারেই আটকে রয়েছেন তাঁরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএলের (ECL) কুমারডিহির কোলিয়ারিতে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই বিপত্তি?
জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ প্রাত্যহিক কাজের জন্য ডুলিতে চেপে খনির গভীরে নামছিলেন ৮ জন শ্রমিক। একই সময়ে কাজ শেষ করে খনির নিচ থেকে ওপরে উঠে আসছিলেন আরও ৬ জন কর্মী।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় অঘটন। ডুলি ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিন ঘরের ড্রামে একটি লোহার তার ফেঁসে যায়। এর ফলে মাঝপথেই স্তব্ধ হয়ে যায় ডুলির গতি। দু’দিকে দুটি ডুলির মধ্যে অন্ধকার খনিগর্ভে বন্দি হয়ে পড়েন মোট ১৪ জন কর্মী।

তিন ঘণ্টা ধরে আতঙ্ক, চলছে অক্সিজেন ও খাবার সরবরাহ
খবর লেখা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খনির অন্তহীন অন্ধকারের মধ্যে আটকে রয়েছেন ওই কর্মীরা। প্রিয়জন ও সহকর্মীদের এই বিপদের খবর পেয়ে কোলিয়ারি চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন অনান্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে খনির ওপর থেকে পাইপের মাধ্যমে আটকে থাকা শ্রমিকদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁদের মনোবল অটুট রাখতে ও আতঙ্ক কাটাতে উপর থেকে চিৎকার করে নাগাড়ে কথা বলে যাচ্ছেন সহকর্মীরা। সুড়ঙ্গের নিচে আটকে থাকা কর্মীদের সাময়িক স্বস্তি দিতে উপর থেকে দড়ির সাহায্যে জলের বোতল ও খাবারও নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে দেরি হলে ভূগর্ভে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং চরম আতঙ্কে বড়সড় বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্বিগ্ন সহকর্মীরা।

প্রশাসনের তৎপরতা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি বলেন, “খনিগর্ভে আটকে থাকা কর্মীদের নিরাপদে উপরে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম জরুরি চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কর্মীরা যাতে আতঙ্কিত না হন, তার জন্য আমরা উপর থেকে ক্রমাগত তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সাহস জোগাচ্ছি।”

কোলিয়ারির এজেন্ট মধুসূদন সিং জানিয়েছেন, “শীঘ্রই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। খনির নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে ও অক্ষত অবস্থায় উপরে তুলে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।” তবে ঠিক কী কারণে ইঞ্জিন ঘরের ড্রামে তার ফেঁসে গিয়ে এই যান্ত্রিক বিপত্তি ঘটল, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও দিতে পারেননি তিনি।

বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আটকে থাকা ১৪ জন কর্মীকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনার কাজ শুরু হয়েছে। বর্ধমান ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের এই খনি দুর্ঘটনার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।