‘বিজেপি অফিসে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মঘাতী হব!’ বিস্ফোরক কৌস্তভ বাগচী, তুলকালাম রাজ্য রাজনীতি

বিজেপি দফতরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি! মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কৌস্তভ বাগচী

টিটাগড়ের চাঞ্চল্যকর বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই নেতাকে বিজেপির দলীয় মঞ্চে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আর এই ঘটনাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সাফ জানিয়ে দিলেন, মণীশ শুক্লার খুনিরা বিজেপিতে যোগ দিলে তিনি সহ্য করবেন না। প্রয়োজনে বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মাহুতি দেবেন!

সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কৌস্তভ বাগচীর এই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ শিবিরের অন্দরেও।

‘দলীয় ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা, প্রয়োজনে গায়ে আগুন দেব!’

বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী স্পষ্ট ও চড়া সুরে বলেন, “উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে আমাদের দলের লোকের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখে ব্যারাকপুরের সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমি দলীয় নেতৃত্বের কাছে হাতজোড় করে বিনীত নিবেদন করব—এই ধরনের মানুষকে যেন কোনোভাবেই দলে যোগদান না করানো হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই মানুষদের দলে আনা হলে বিজেপির নীতি শেষ হয়ে যাবে। এর জন্য যদি আমাকে আমাদের রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে আত্মঘাতী হতে হয়, আমি তাই করব! আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও প্রতিজ্ঞা নিয়ে বাংলার মানুষের মনে অন্তত কোনো প্রশ্ন নেই, কারণ আমি একটানা সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে প্রতিবাদ করেছি।”

কী ঘটেছিল মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে?

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে। সেই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সুপারি কিলারদের নাম সামনে আসে। ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম জড়িয়ে পড়েছিল ব্যারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর।

কৌস্তভ বাগচীর অভিযোগ, সেই সময় তাঁরা শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকায় কোনো উপযুক্ত শাস্তি পাননি। কিন্তু এখন রাজ্য রাজনীতির হাওয়া বদলাতেই এই অভিযুক্তরা রং বদলানোর চেষ্টা করছেন এবং পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বের কাছাকাছি আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিজেপির অন্দরে বড়সড় ফাটল?

রাজ্যে পালাবদলের আবহ তৈরি হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবদলের হিড়িক দেখা গিয়েছে। ব্যারাকপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে মণীশ শুক্লার মতো জনপ্রিয় নেতার খুনে অভিযুক্তরা বিজেপিতে ঢুকলে তৃণমূলস্তরের কর্মীদের মন ভেঙে যাবে বলেই মনে করছেন কৌস্তভ।

তিনি সাফ জানিয়েছেন, মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের বিজেপির দরজা দেখতে দেওয়া হবে না। কোনোভাবেই এই অন্যায় তিনি মেনে নেবেন না। এখন দেখার, দলীয় বিধায়কের এই বিস্ফোরক ও চরম হুঁশিয়ারির পর বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।