“থুতু ফেলতেই ছড়িয়ে পড়ল বিদ্যুৎ!”-মুহূর্তে ঝুলন্ত লাশ বৃদ্ধ, অলৌকিক এই মৃত্যুর আসল কারণ কী?

ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে গুটখার পিক ফেলতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি! ১১ কেভি বিদ্যুতের শকে করুণ মৃত্যু বৃদ্ধের; সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

একটুখানি অসাবধানতা আর চরম এক অভ্যেসই ডেকে আনল মর্মান্তিক বিপর্যয়। তিন তলার বারান্দা থেকে গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। ১১ হাজার ভোল্টের (11 KV) হাইটেনশন তারের সংস্পর্শে এসেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার গায়ত্রী নগর এলাকায়।

মৃত বৃদ্ধের নাম প্রভুলাল গুপ্ত (৬০)। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর দৃশ্যে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

কী ঘটেছিল ঠিক সেই মুহূর্তে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি ৬০ বছর বয়সী প্রভুলাল আদতে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা হলেও গত ১০ বছর ধরে কাজের সূত্রে বিদিশার গায়ত্রী নগরে ভাড়া থাকতেন। তিনি যে তিন তলা বাড়িটিতে থাকতেন, সেটি তখনও নির্মীয়মাণ ছিল।

ঘটনার দিন তিন তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুটখার পিক ফেলতে যান প্রভুলাল। সেই সময়েই ঘটে অঘটন। বারান্দার গা ঘেঁষে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের বিকট শকে মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যান তিনি। বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হওয়ার পর তাঁর নিথর দেহটি কিছুক্ষণ তিন তলার কার্নিশেই ঝুলে থাকে।

এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাইটেনশন তার নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ঘটনার পর থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার অধিবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই নির্মীয়মাণ বাড়িটির একদম গা ঘেঁষেই চলে গিয়েছে প্রাণঘাতী হাইটেনশন বিদ্যুতের লাইন। এই লাইনের কারণে যেকোনো দিন বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে জেনেও বিদ্যুৎ দফতরকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ, বিদ্যুতের লাইনটি সরানো বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বারেবারে আবেদন করা সত্ত্বেও প্রশাসন বা বিদ্যুৎ দফতর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।

গুটখার পিক বা থুতু ফেললে কীভাবে শক লাগে? যা বলছেন বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা

কোনো স্পর্শ ছাড়াই গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে কীভাবে এত বড় অঘটন ঘটল, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:

  • বিদ্যুৎ পরিবাহী থুতু: মানবদেহের থুতু বা লালায় প্রচুর পরিমাণে জল ও গলানো লবণ (Electrolytes) থাকে। যা বিদ্যুতের অত্যন্ত উৎকৃষ্ট পরিবাহী (Conductor)।

  • পরিবাহী পথ তৈরি: উচ্চ ভোল্টেজের (যেমন ১১,০০০ ভোল্ট) কোনো সক্রিয় তারের দিকে ক্রমাগত থুতু বা পিকের ধারা ফেললে, সেটি বিদ্যুতের চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলে এক অদৃশ্য ‘পরিবাহী পথ’ বা চ্যানেল তৈরি করে ফেলে।

  • ইলেকট্রিক্যাল আর্ক (Electrical Arc): হাইটেনশন তারের এত কাছাকাছি বারান্দা থাকলে এবং কোনো ধাতব বা তরল মাধ্যম তৈরি হলে বিদ্যুৎ বাতাসের মধ্য দিয়েই স্ফুলিঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় Arcing বলা হয়)।

ফলাফলস্বরূপ, বৃদ্ধ সরাসরি তারে হাত না দিলেও পিকের ধারার মাধ্যমে বাতাসের মধ্য দিয়ে কারেন্ট তাঁর শরীরে প্রবেশ করে এবং সেকেন্ডের ভগ্নাংশে শরীরে মারাত্মক বৈদ্যুতিক প্রবাহের সৃষ্টি হয়ে করুণ মৃত্যু ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুতল ভবনের বারান্দা থেকে খোলা আকাশের নীচে তরল ফেলা বা থুতু ফেলার অভ্যাস কেবল নোংরাই ছড়ায় না, বরং আশেপাশে হাইটেনশন তার থাকলে তা নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।