“মোদীর নেতৃত্বে এখন নতুন ভারত, ছোট স্বপ্ন দেখে না!” কেভিন পিটারসেনের এক নিবন্ধে তোলপাড় ক্রিকেট থেকে রাজনীতি

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার কেভিন পিটারসেন এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। বিগত দুই দশকে ভারতের অভূতপূর্ব রূপান্তর, ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস এবং প্রযুক্তি থেকে শুরু করে খেলাধুলোর ময়দানে বিশ্বজয়ের মানসিকতা দেখে মুগ্ধ এই ব্রিটিশ তারকা। সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদপত্রের মতামতধর্মী কলামে ২০০৩ সাল থেকে ভারতে আসার অভিজ্ঞতা এবং নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক ২৪-২৫ বছরের যাত্রার সঙ্গে ক্রিকেটের দীর্ঘ ইনিংসের তুলনা টেনে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন পিটারসেন।

নিজের লেখার একটি স্ক্রিনশট এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ট্যাগ করে প্রণামের ইমোজি সহ পিটারসেন লেখেন: “আমি যে ভারতকে চিনি এবং ভালোবাসি!”। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর পক্ষ থেকেও পিটারসেনের এই নিবন্ধটি পুনর্শেয়ার করে ভারতের অগ্রগতি নিয়ে তাঁর মূল পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরা হয়।

“২০০৩-এর ভারত আর আজকের ভারত সম্পূর্ণ আলাদা”

২০০৩ সালে প্রথমবার ভারত সফরের স্মৃতিকথা স্মরণ করে পিটারসেন জানান, সেই সময় নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবেমাত্র দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। পিটারসেন মজার ছলে মন্তব্য করেন, মোদী ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে (UK) ইতিমধ্যেই ছ’জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছেন, কিন্তু ভারতের নেতৃত্ব মোদীর হাতেই রয়ে গেছে অবিচল।

পিটারসেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান ভারতের তরুণদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। বিশেষ করে মোদীর ‘বড় স্বপ্ন দেখা’ এবং ‘ফিট ইন্ডিয়া’র মতো মানসিকতা ভারতীয়দের মানসিক গঠনে এক বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেট ও মহিলা ক্রীড়াবিদদের জয়জয়কার

নিবন্ধে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রের আমূল পরিবর্তনের কথা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা:

  • ক্রিকেটের গভীরতা: আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাফল্য দু-একজন তারকার ওপর নির্ভর করত, কিন্তু বর্তমানে দলের প্রতিভার গভীরতা এবং ব্যাকআপ প্লেয়ারদের আত্মবিশ্বাস বিশ্বসেরা।

  • মহিলা ক্রিকেটের উন্মেষ: ভারতে মহিলা ক্রিকেটের অভূতপূর্ব প্রসার কেবল ভারতের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক বিরাট মাইলফলক।

  • অন্যান্য খেলাধুলো: ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, বক্সিং, শুটিং, অ্যাথলেটিক্স এবং হকিতে বিশ্বমানের পরিকাঠামো ও পেশাদার প্রশিক্ষণের ফলে ভারতীয় অ্যাথলিটরা এখন যে কোনো বিশ্বমঞ্চে পদক জয়ের দাবিদার।

প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় মুগ্ধ পিটারসেন

শুধু খেলাধুলোই নয়, ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব, মেট্রো নেটওয়ার্ক, আধুনিক বিমানবন্দর এবং চমৎকার সড়ক পরিকাঠামোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনি। পিটারসেন জানান, এক সময় ব্রিটেনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ভারত প্রসঙ্গে কেবল খাবার আর পর্যটন নিয়ে কথা হতো, কিন্তু আজ সেখানে আলোচনা হয় ভারতের উর্ধমুখী অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ইউপিআই (UPI) এবং বিশ্বমানের পরিকাঠামো নিয়ে। মোদীর সঠিক নেতৃত্বেই ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত বলে মত এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের।