ফসল বাঁচাতে গিয়ে বিভীষিকা! ঝাড়খণ্ডে তরুণকে ঘেরাও করে মাড়িয়ে মারল হাতির পাল, আতঙ্কে একাধিক গ্রাম

ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায় বুনো হাতির দলের তাণ্ডবে ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নিজের কষ্টার্জিত খেতের ফসল রক্ষা করতে গিয়ে ২৪টিরও বেশি হাতির একটি হিংস্র পালের মুখোমুখি হয়ে প্রাণ হারালেন ৪০ বছর বয়সি এক যুবক। মৃত যুবকের নাম নিকোলাস টপনো, তিনি সরিতা পঞ্চায়েতের বুরুহাতু গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গুমলার কামদারা ব্লক এলাকায়। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এক সপ্তাহ ধরে তছনছ খামার, আতঙ্কে গ্রামবাসীরা
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় দুই ডজনেরও বেশি বুনো হাতির একটি বিশাল পাল গুমলার লোকালয় ও কৃষিজমির আশেপাশে আস্তানা গেড়েছে। প্রতিদিন রাতে হাতির দল গ্রামে ঢুকে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল পাড়িয়ে নষ্ট করছে।
নিজের খেতের ধান ও ফসল বাঁচাতে অন্যান্য কৃষকদের মতো নিকোলাস টপনোও রাতে পাহারায় বেরিয়েছিলেন। হাতি তাড়ানোর জন্য তিনি চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, যাতে বুনো পশুর দল তাঁর জমিতে তাণ্ডব চালাতে না পারে।
ঘিরে ধরে নির্মমভাবে পদদলিত করল হাতির পাল
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্ধকারে খেতের মাঝে আচমকাই কয়েকটি হাতি নিকোলাসকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তিনি প্রাণ বাঁচিয়ে পালানোর আগেই হাতির দল তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং নৃশংসভাবে তাঁকে মাড়িয়ে পিষে মারে। আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে দৌড়ে আসার আগেই ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় তাঁর।
ঘটনাস্থলে বন দফতর, দেওয়া হলো ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ
খবর পেয়ে কামদারা থানার পুলিশ এবং বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনার পরপরই বন দফতরের তরফে মৃতের স্ত্রী ও পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক ১ লক্ষ টাকা সরকারি ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন দফতরের আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের সতর্ক করে নির্দেশ দিয়েছেন, সন্ধ্যার পর বুনো হাতির পালের কাছে কেউ যেন নিজের ঝুঁকিতে না যান।