ভোটের আগেই হঠাৎ কেন বাড়ল ৬৫টি ওয়ার্ড? কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্গঠন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে বিস্ফোরক মামলা!

সামনেই পুর নির্বাচন। তার ঠিক আগেই কলকাতা পুরসভার আসন ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে শুরু হয়ে গেল আইনি লড়াই। কলকাতা পুরসভার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ‘অবৈজ্ঞানিক ও খামখেয়ালি’— এই অভিযোগ তুলে পুরো ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটিই বাতিল করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক নাগরিক। হাইকোর্টের বিচারপতি ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
কী অভিযোগ মামলাকারীর?
কসবার বাসিন্দা ওই মামলাকারীর দাবি, প্রশাসন কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন না করেই সম্পূর্ণ একতরফা ভাবে এবং নিজেদের মর্জিমাফিক ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করেছে।
মূল অভিযোগগুলি হলো:
অযৌক্তিক আসন বৃদ্ধি: এতদিন কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ড ছিল, যা একলাফে বাড়িয়ে ২০৯টি ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে। এক ধাক্কায় ৬৫টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তি বা সাযুজ্য নেই।
নাগরিক ভোগান্তির আশঙ্কা: মামলাকারীর বক্তব্য, এতদিন ১৪৪টি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষ যেভাবে পুর পরিষেবা পেতেন, সেখানে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে হঠাৎ এভাবে নতুন ওয়ার্ড তৈরি করার ফলে বাসিন্দারা আদৌ নতুন সুবিধা পাবেন না, বরং তাঁদের পরিষেবা পেতে নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হবে।
এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।
কালীপুজোর পরই ভোটের দামামা!
উল্লেখ্য, কালীপুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের বাদ্যি বেজে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, নভেম্বরের শেষেই হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন।
ভোটে জয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করেছে শাসকদল ও বিরোধী দলগুলি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ৬-৭ মাসের মাথায় কলকাতা ও হাওড়ার মতো দুটি মেগা পুরসভার এই ভোট রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখেই ডিলিমিটেশন বাতিলের মামলা হাইকোর্টে ওঠায় নির্বাচনী সূচি ও প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।