“নিজের ঘর সামলাতে পারছেন না, আমার কী দায়?” ফিরহাদ হাকিমের বিস্ফোরক মন্তব্য টেনে মমতাকে ধুয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিধায়ক-সাংসদ ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, শাসকদলের ভেতরের গোলমালের দায় কোনোভাবেই বিজেপির ওপর চাপানো যাবে না। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্যকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন তিনি।
“নিজের ঘর সামলাতে পারছেন না উনি”
তমলুকে বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“উনি ৮০ জন বিধায়ককে জিতিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের ধরে রাখতে পারেননি। তার দায় কি আমার? ওনাদের ২৯ জন এমপি জিতেছিলেন, যার মধ্যে একজন মারা যান। বাকি ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জনকে ধরে রাখতে পারলেন না— তার দায় কি আমার নাকি? উনি নিজের ঘর সামলাতে পারছেন না, তার জন্য আমাদের দোষ দিয়ে লাভ কী?”
শুভেন্দুর দাবি, তাদের দল ভাঙানোর কোনো প্রয়োজন নেই, বরং তৃণমূলের নিজস্ব ভুল নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই দলটির নেতারা আজ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য নিয়ে জোরদার খোঁচা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন,
“ওঁর সবচেয়ে বড় অনুগামী ফিরহাদ হাকিম নিজেই বলছেন যে, উনি ভক্তদের চেয়ে রক্তকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন! ফিরহাদ হাকিম কি আমাদের বিজেপির নেতা, নাকি আমাদের মুখপাত্র? উনি তো তৃণমূলেরই বড় নেতা। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত আগে নিজের প্রতিবেশী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলে বিতর্ক মিটিয়ে নেওয়া, তারপর আমাদের নিয়ে ভাবা।”
তমলুকের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ধারালো মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।