“ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়েছিলেন, ঠাঁই হলো কবরস্থানে!” মথুরায় প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে নববধূর নৃশংস ‘অনার কিলিং’

উত্তরপ্রদেশের মথুরায় ঘটে গেল এক অত্যন্ত হাড়হিম করা ও চাঞ্চল্যকর ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনা। পরিবারের অমতে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করায় এক নববিবাহিত তরুণীকে ছলনা করে বাড়িতে ডেকে এনে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠল তাঁরই নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে। শুধু হত্যাই নয়, অপরাধ ঢাকতে তরুণীর দেহ চুপিচুপি কবরস্থানে পুঁতে ফেলা হয়। মথুরার গোবিন্দ নগর থানার অন্তর্গত ‘নাই বস্তি’ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ডেকে আনা হয়েছিল বাড়িতে!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাই বস্তির বাসিন্দা তরুণী নাজিয়া প্রায় দেড় মাস আগে নিজের পছন্দের পাত্র রবীন্দ্রের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়েন। পরবর্তীতে তাঁরা আইনি ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ে করেন এবং শান্তিতে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন।
কিন্তু ঘটনা জানতে পেরে নাজিয়ার পরিবার এক গভীর ষড়যন্ত্র ছকে ফেলে। প্রায় ১৫ দিন আগে নাজিয়া ও রবীন্দ্রকে জানানো হয় যে, পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে এবং মথুরায় এনে মহা ধুমধাম করে একটি সামাজিক বিয়ের আয়োজন করা হবে। পরিবারের সেই আশ্বাসের ফাঁদে পা দিয়ে মথুরার নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন নাজিয়া।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও স্বামীর সন্দেহ
অভিযোগ, নাজিয়া বাড়ি ফেরার পরেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং নৃশংসভাবে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর গভীর রাতে নাই বস্তির একটি স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে দেহটি মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়।
এদিকে দিল্লিতে থাকা স্বামী রবীন্দ্র বারবার স্ত্রী নাজিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সন্দেহ দানা বাঁধতেই তিনি দ্রুত রাজস্থানে স্ত্রী অপহরণ ও হত্যার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কবর খুঁড়ে উদ্ধার করা হলো দেহ
অভিযোগ পাওয়ার পর মথুরা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং নাজিয়ার ভাই আকরামকে হেফাজতে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পুলিশের টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে আকরাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং পুরো হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম মিশ্রের নির্দেশে ও তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে কবরস্থান থেকে নাজিয়ার দেহটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। মথুরার এসপি সিটি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সাথে যুক্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।