অযোধ্যায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিরাট আইনি মোড়! জমি মালিক বনাম সরকারের লড়াইয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

রামনগরী অযোধ্যায় প্রস্তাবিত এক বিশাল আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার তুঙ্গে। জমি অধিগ্রহণের সঠিক নিয়মাবলি ও কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ‘শ্রী সরযূ নগর বিকাশ সমিতি’র দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি শেষে আপাতত রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনকারী সমিতি ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের চরম বাকযুদ্ধ চলে।
আবেদনকারী পক্ষের জোরালো দাবি
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে জোরদার যুক্তি তুলে ধরে জানান, কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। ২০১৩ সালের ‘ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনর্সংস্থানে স্বচ্ছতা ও সঠিক ক্ষতিপূরণ অধিকার আইন’ মেনে জমি মালিকদের সুরক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প শুরুর আগে আইন অনুযায়ী সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (SIA) করা হয়নি, বহুফসলি কৃষি জমি অধিগ্রহণের নিয়ম মানা হয়নি এবং পূর্বে অধিগ্রহণ করা জমির সঠিক ব্যবহারও খতিয়ে দেখা হয়নি। তাই এই প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার আর্জি জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সরকারের পাল্টা যুক্তি
মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (SIA) কোনো হালকা বিষয় নয় যে একে এড়িয়ে যাওয়া যাবে, তবে তা যেন সরকারের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। পাশাপাশি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়া জনকল্যাণমুখী উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জনস্বার্থের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান:
ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের ২০১৩ সালের আইন মেনেই ক্ষতিপূরণ ও সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।
অযোধ্যার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্রে আবাসন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সামান্য কিছু দাবির ওপর ভিত্তি করে আটকে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের আগের নির্দেশ
এর আগে গত ৬ অগস্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ‘উত্তর প্রদেশ আবাসন ও বিকাশ পরিষদ’-কে নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ২০১৩ সালের আইনের মুলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে সেই রায়ে অখুশি হয়েই সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছিল আবেদনকারী সমিতি। আপাতত উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর শীর্ষ আদালত তার চূড়ান্ত রায় স্থগিত রেখেছে।