নিজের মাইনে স্বামীর হাতে তুলে দিতে চাননি স্ত্রী! হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা পাষণ্ড স্বামীর

নিজের উপার্জনের কষ্টার্জিত টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে চাননি স্ত্রী। আর সেই ক্ষোভেই স্ত্রীকে মাছ দেওয়ার বাহানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে! নৃশংস এই ঘটনায় বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই গৃহবধূ। রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের ৮ নম্বর গরান বোস (গরান্গঞ্জ) গ্রাম সংলগ্ন এলাকায়।
টাকা নিয়ে বিরোধ ও আলাদা থাকা
স্থানীয় সূত্রে ও পরিবার মারফত জানা গিয়েছে, গরান্গঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা নাজমা শেখ এবং তাঁর স্বামী হাসান শেখ— দুজনেই কর্মসূত্রে কলকাতার গড়িয়ায় একটি সেলাইয়ের (দরজির) দোকানে কাজ করতেন। দুজনেই আলাদা আলাদা উপার্জন করতেন।
অভিযোগ, প্রতি মাসেই স্ত্রী নাজমার সমস্ত উপার্জনের টাকা নিজের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন স্বামী হাসান। কিন্তু নিজের কষ্টার্জিত টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে একেবারেই নারাজ ছিলেন নাজমা। আর এই টাকার অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই দীর্ঘদিন ধরে দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল এবং তাঁরা আলাদা থাকছিলেন।
মাছ দেওয়ার বাহানায় ডেকে পৈশাচিক অত্যাচার
পরিবারের অভিযোগ, রবিবার বিকেলে স্বামী হাসান শেখ ফোন করে স্ত্রী নাজমাকে মাছ দেওয়ার নাম করে ভরতগড় বাজারে ডেকে পাঠান। স্বামীর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে নাজমা বাজারে পৌঁছানোর পর হাসান তাঁকে এক আত্মীয়ের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে দোতলার একটি ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নাজমার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর বিন্দুমাত্র দয়া না দেখিয়ে হাসান একটি হাতুড়ি দিয়ে নাজমার দুটি হাঁটুর ওপর এবং পিঠে পরপর এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগ। বধূর প্রাণভরা আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশি পদক্ষেপ
রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে প্রথমে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় আক্রান্ত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বাসন্তী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী হাসান শেখ, তার খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।