অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য মানহানিকর নয়! ৬ বছর পর ঐতিহাসিক রায়ে রাহুলকে খালাস দিলেন বিচারক শুভম ভার্মা, কে তিনি?

২০১৮ সাল থেকে ঝুলতে থাকা হাইভোল্টেজ মানহানি মামলায় বিশাল আইনি স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তৎকালীন বিজেপি সভাপতি তথা বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া ঐতিহাসিক মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন তিনি। সোমবার উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতের বিচারক তথা অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) শুভম ভার্মা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাহুলের দেওয়া বক্তব্য আইনত মানহানিকর (Defamatory) ছিল না।
দীর্ঘ ৬ বছর পর বিচারকের এই রায়ের মাধ্যমে সব অভিযোগ থেকে সসম্মানে অব্যাহতি পেলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই নেতা। সোমবার ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণার সময়ে তিনি সশরীরে সুলতানপুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের জন্য এটিকে এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যে রায়ে তোলপাড় রাজনীতি: কে এই বিচারক শুভম ভার্মা?
অমিত শাহ বনাম রাহুল গান্ধীর মতো দেশের সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক মামলার নিষ্পত্তিতে ঐতিহাসিক রায় দিয়ে বর্তমানে জাতীয় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন বিচারক শুভম ভার্মা।
পদমর্যাদা: তিনি উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতের অ্যাডিশনাল সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) এবং অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।
মামলার গুরুত্ব: দীর্ঘ ৬ বছর ধরে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলা ঝুলছিল। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে এবং আইনগত দিকগুলি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মামলা পরিচালনায় তাঁর এই পর্যবেক্ষণ আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চিত হচ্ছে।
কী ছিল ৬ বছর পুরনো এই বিতর্ক?
২০১৮ সালে একটি প্রচারসভায় তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সম্পর্কে কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই মন্তব্যে অমিত শাহের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে— এই দাবি তুলে সুলতানপুর আদালতে রাহুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় আদালতে হাজিরা ও সওয়াল-জবাব চলার পর অবশেষে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর রাহুলের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিল আদালত।